চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শনাক্তে স্বজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) সামনে স্থাপিত বুথে নমুনা সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট।
.png)
এর আগে, সোমবার ২১ পরিবারের ৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৩ সদস্যের পরিবারও রয়েছে।
সিআইডি চট্টগ্রামের ফরেনসিক ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হেল্প ডেস্ক থেকে জানানো হয়েছে, বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহদের মধ্যে ২৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। তবে এখনো ১৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি।
গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া যায়।
বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।
চিকিৎসকরা বলছেন, আগুনে দগ্ধদের বেশিরভাগের চোখ ও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিট ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন অর্ধশতাধিক। বার্ন ইউনিটে আসন সংকটের কারণে ৩১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।