ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ: মামলায় অভিযুক্ত যারা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:৫৯, ৯ জুন ২০২২
বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ: মামলায় অভিযুক্ত যারা
ক্ষতিগ্রস্ত বিএম ডিপো

সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে ৪৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ডিপোটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

অভিযুক্তরা হলেন- ডিপোর মহাব্যবস্থাপক নাজমুল আক্তার খান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) নুরুল আক্তার খান, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খালেদুর রহমান, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্বাস উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (প্রশাসন) নাছির উদ্দিন, সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল আজিজ, ডিপোর শেডের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ও সহকারী ডিপো ইনচার্জ নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই আশরাফ সিদ্দিকী। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

Advertisement

নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিনিয়োগে বিএম কনটেইনার ডিপো প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বাংলাদেশের স্মার্ট গ্রুপের অংশীদারিত্ব রয়েছে। যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটিও স্মার্ট গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান আল রাজী কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের। পোশাক, এলপিজি ও খাদ্যপণ্য খাতে বিনিয়োগ রয়েছে স্মার্ট গ্রুপের।

বিএম ডিপোর ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ডিপোটির চেয়ারম্যান বার্ট প্রঙ্ক। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরিচালক হিসেবে আছেন স্মার্ট জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান।

শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পরে মঙ্গলবার ডিপো থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মারা যান একজন এবং একইদিন সন্ধ্যায় ডিপো থেকে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে হিসেবে এখন নিহতের সংখ্যা ৪৫। এছাড়াও দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।

নিহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের নয়জন সদস্য রয়েছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে রাসায়নিক ভর্তি কনটেইনারে বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তারা। ঘটনার শুরু থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলে আসছেন- প্রথাগতভাবে তারা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থাকার বিষয়টি কেউ তাদের জানায়নি। জানলে আরো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে ফোম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হতো। এছাড়া তাদের ৯ কর্মীকে জীবন দিতে হতো না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!