জোড়া লাগানো থেকে আলাদা হওয়া লাবিবা-লামিসা পেল ঈদ উপহার
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার জোড়া লাগানো যমজ দুই বোন লাবিবা ও লামিসাকে আলাদা করে কিছুদিন আগেই বাড়ি আনা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির। একইসঙ্গে তিনি তাদের জন্য নিয়ে যান ঈদ উপহার।
২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে জন্ম হয় আলোচিত জোড়া লাগানো যমজ দুই বোন লাবিবা ও লামিসার। তারা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের জদুনাথ পাড়া গ্রামের দিনমজুর লাল মিঞা ও মনুফা বেগম দম্পতির কন্যা।
গত ২১ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয় তাদের। সুচিকিৎসার ফলে সুস্থ হয়ে গত ১৫ জুন বাড়িতে আসে তারা। তাদের আসার খবর পেয়ে শতশত নর-নারীর ভিড় জমায় তাদের বাড়িতে।
শনিবার দুপুরে তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির। সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে আনন্দিত লাবিবা ও লামিসার পরিবারসহ গ্রামের লোকজন। এ সময় লাবিবা-লামিসার হাতে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ তুলে দেন সিভিল সার্জন এবং তার মেয়ে ইফ্ফাত জাহাঙ্গীর শায়বা।
ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আমি নীলফামারীতে আসার পরপরই জানতে পারি অসহায় একটি পরিবারের দুটি সন্তান জোড়া লাগানো। তাদের চলতে ফিরতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং আমি তাদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সহায়তা করে এসেছি। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তারা আলাদাও হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, লাবিবা-লামিসার খোঁজখবর নিতে এসেছি। তাদের একজন মোটামুটি সুস্থ আছে এবং আর একজনের কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আশা করছি চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। এ সময় তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারদেরকে অভিনন্দন জানান।