দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত মধুটিলা ইকোপার্ক
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বন বিভাগের আওতাধীন মধুটিলা ইকোপার্ক ঈদুল আজহা উপলক্ষে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। ঈদের চতুর্থ দিন বুধবারও মধুটিলা ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সবুজের সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে মধুটিলা ইকোপার্ক। গত দুই বছরের চেয়ে এ এবারের ঈদুল আজহায় মধুটিলা ইকোপার্কে পর্যটকদের ভিড় বেশি। উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা, কৃত্রিম লেক আর সবুজ বনানী দেখতে তারা ভিড় জমাচ্ছেন। ঈদের ছুটি কাটাতে ইট, কাঠ, কংক্রিট আর পাথরে গড়া শহর ও নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে ইকোপার্কে বেড়াতে আসছেন তারা।
এই পার্কের প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারিসারি গাছ। খোলা প্রান্তর ছাড়াও রাস্তার দুইপাশে রয়েছে রকমারি পণ্যের দোকান। এরপর একটু সামনে এগোলেই পাহাড়ি ঢালু রাস্তা। এরপর রয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্যকন্যা, মাছসহ বিভিন্ন পশু-পাখির ভাস্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। কৃত্রিম লেকের উপর রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সেতু। এ সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকেন পর্যটকরা।
লেকে প্যাডেল বোটে চড়ে ঘোরাফেরার পর পাহাড়ের উপর পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা।
টাঙ্গাইল থেকে ঘুরতে আসা রফিকুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থেকে বাইরে যেতে পারেননি। তাই মধুটিলা ইকোপার্কে ঘুরতে এসে পাহাড়ি সবুজ বন-বনানী দেখে অনেক ভালো লেগেছে তার।
পার্কের ইজারাদার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন ও ফারুক হোসেন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে বেশিরভাগ সময় মধুটিলা ইকোপার্ক বন্ধ ছিল। এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় পার্ক খুলে দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, ঈদ উপলক্ষে এরই মধ্যে মধুটিলা ইকোপার্ক দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আগত দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সেজন্য পরামর্শ প্রদান এবং সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।