অটোযাত্রীদের উদ্ধারে এসে বাবা দেখলেন ছেলের লাশ
অটোচালক হাসিব খান যে স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার ৫০০ গজ দূরে তারই দিনমজুর বাবা রফিকুল ইসলাম কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনা দেখে কাজ ফেলে অটোর যাত্রীদের উদ্ধার করতে ছুটে এসে রফিকুল ইসলাম দেখতে পান তার বড় সন্তান হাসিব খান অটোর ভেতর আটকা পড়ে লাশ হয়ে পড়ে আছে। এ অবস্থা দেখেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন রফিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাসিব খানের মামা মিজানুর রহমান বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে আছেন ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারের অপেক্ষায়। কখন হবে ময়নাতদন্ত আর কখনই বা পুলিশ তাদের বুঝিয়ে দেবে হাসিবের লাশ।
একই সময় কিছুটা দূরে বসে আছেন হাসিব খানের শ্বশুর কামাল হোসেন। তিনিও বসে আছে মেয়ের স্বামীর লাশ গ্রহণ করার জন্য।
.png)
এ সময় তিনি জানান, এক বছর আগে হাসিবের কাছে মেয়ে বিয়ে দেন। ভালোই ছিল তাদের সংসার মাত্র ১৮ দিন আগে হাসিব একটি কন্যা সন্তানের বাবা হয়।
অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ ও মেয়ের দুধের টাকা আয় করতে নেমে হাসিবের ঘরে আর ফিরে আসা হলো না। ওতো ওর মেয়ে রেখে গেছে আমি আমার মেয়েসহ নাতনিকে কার কাছে রেখ যাব বলেই কেঁদে দেন।
বুধবার (২০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে একটি বিআরটিসি বাস যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে অটোরিকশা চালকসহ তিনজন নিহত হন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়জনে।
নিহতরা হলেন, তানজিলা ও তার ভাই সোহাগ, বোন সাথী, যাত্রী আমীর ও অটোচালক হাসিব।