ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জীর্ণ ভবনে পাঠদান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪০, ২৪ জুলাই ২০২২
জীর্ণ ভবনে পাঠদান
জরাজীর্ণ দেবিদ্বার উপজেলার ৭০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভবনের পিলারে ফাটল ধরেছে বহু আগে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসছে ভেতরের ইট। এ জরাজীর্ণ অবস্থা কুমিল্লার দেবিদ্বারের ৭০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের। এ ভবনের সবগুলো শ্রেণিকক্ষই ঝুঁকিপূর্ণ। পাঠদান করানো হয় শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।  

জানা গেছে, ১৯৪১ সালে গুনাইঘর উত্তর ইউপির গুনাইঘর বাজার সংলগ্নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যালয়টি। পরে ১৯৯৪-৯৫ সালের ৩ জুন এলজিইডির অর্থায়নে নির্মিত একতলা ভবনটির উদ্বোধন করে তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এলজিএসপি-২ অর্থায়নে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ছাদ মেরামত ও সংস্কার করা হয়। মেরামতের কয়েক বছর না যেতেই ভবনটি আবারো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।    

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, এ স্কুলে আমরা লেখাপড়া করেছি। স্কুলের দেয়াল ও পিলার ফাটল ধরেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।  

 জরাজীর্ণ দেবিদ্বার উপজেলার ৭০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আরেক বাসিন্দা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যকর টয়লেটের সংকট। 

প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জেনেও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরাও। বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কয়েক দফা লিখিতভাবে জানানোর পরও কাজ হচ্ছে না। 

 জরাজীর্ণ দেবিদ্বার উপজেলার ৭০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, স্কুলের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আবু ইউসুফ নামে একজন পিয়ন রাখা হয়েছে। তিনি মাসের একদিনও স্কুলে আসেন না। স্কুলে না এসেই বেতন নিচ্ছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। পরে আমি দুই হাজার টাকা দিয়ে অন্য একটি মহিলা নিয়োগ দিয়েছি। 

 জরাজীর্ণ দেবিদ্বার উপজেলার ৭০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেরা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ। এখানে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। ভবনটি ভেঙে দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। 


উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে ভবনের জন্য লিখিত দেয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই নতুন ভবন বরাদ্দ হবে।   

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!