রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম ফজলুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় আরো চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিতের নাম উজ্জ্বল প্রামাণিক। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার কৈচর দক্ষিণপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না তিনি।
.png)
খালাস পাওয়া চারজন হলেন- কৈচর দক্ষিণপাড়া এলাকার হিরা প্রামাণিক, আলেয়া বেগম, বগুড়ার কাহালু উপজেলার আলোকছত্র গ্রামের লাভলী বেগম ও নাজমুল হোসেন লাবু ।
এর আগে, ২০০৬ সালের ১ আগস্ট স্ত্রী আলো বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন উজ্জ্বল। তবে হত্যার পর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন তিনি। নিহত আলো বগুড়া সদরের সূত্রাপুর এলাকার আকবর আলী মেয়ে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি নরেশ চন্দ্র মুখার্জি জানান, ২০০৬ সালের জুনে উজ্জ্বলের সঙ্গে আলোর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাইকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন আলোর বাবা। বিয়ের এক মাস পার না হতেই আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন উজ্জ্বল।
বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উজ্জ্বলকে আরো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান আলোর বাবা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলোকে পিটিয়ে হত্যা করেন উজ্জ্বল। পরে তার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার চালান। ১ আগস্ট বিকেলে আলোর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পিপি আরো জানান, এ ঘটনার পর একই বছরের ১৮ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলম। মামলার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন উজ্জ্বল। অবশেষে এ হত্যার ১৬ বছর পর এ রায় দেয় আদালত।