সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে মরিয়া রোহিঙ্গারা
ক্যাম্পের চিহ্নিত অপরাধীদের প্ররোচনায় সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা। উদ্দেশ্যহীন সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সম্মুখীন হচ্ছে অনিশ্চিত জীবনের। নৌকা ডুবে কারো কারো সলিল সমাধিও হচ্ছ।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নারী ও শিশুদের ফুসলিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে রাজি করাচ্ছে একদল চিহ্নিত অপরাধী। তাদের এ কাজে ব্যবহার করছে কিছু মানবপাচার চক্র। এসব অপরাধীর কাজ হলো রোহিঙ্গাদের ফুসলিয়ে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া। এরপর বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাছ ধরার নৌকা বোঝাই করে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠায় দালালরা।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়েছে, যা ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া মানুষের তুলনায় ৫০ গুণ বেশি। ২০১৫ সালে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া অধিকাংশ ছিল পুরুষ, যা ২০১৮ সালে ঠেকেছে ৪১ শতাংশে।
.png)
২০১৯ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাগরপথে পাচারের শিকার রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আরো বেশি।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, পাচারকারীরা খুবই চালাক। তারা নানা পন্থা অবলম্বন করে। মালয়েশিয়াগামী লোকজনকে তারা মাছ ধরার নৌকা থেকে বড় জাহাজে তুলে দেয়।
উখিয়া টেকনাফের কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে কথা বলেও এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ মার্চ মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের সোনাদিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাদের ভাসানচরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের মে মাসে টেকনাফ, উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাগরপথে মালেশিয়াগামী ৩০৬ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।