ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রবাসীর স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ২৬ জুলাই ২০২২
প্রবাসীর স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা: ফাইল ফটো

প্রবাসীর স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন চেষ্টা করছে আমানুল্লা ও নূর মোহাম্মদ নামে দুই যুবক। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ সোমবার মামলা করেন। তার মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত আমানুল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খোষকান্দি গ্রামে।

মামলা ও থানাসূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খোষকান্দি গ্রামের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী গত ২৬ জুন স্বামীর বাড়ি থেকে মামার বাড়ি তেলেকান্দি গ্রামে যায়। সঙ্গে তার এক চাচাশ্বশুরও যান। সেখানে কাজ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে তেলেকান্দি দক্ষিণচকে আসলে খোষকান্দি গ্রামের নূর মোহাম্মদ গৃহবধূ ও চাচাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তায় আটকে রাখেন।

তাদের আটকে রেখে ফোনে আমানুল্লাকে আসতে বলেন নূর মোহাম্মদ। আমানুল্লা আসার পর ওই গৃহবধূর চাচাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন তারা। পরে নূর মোহাম্মদ ও আমানুল্লা গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে তারা ওই গৃহবধূর নগ্ন শরীরের ভিডিও-স্থিরচিত্র ধারণ করে এবং এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

Advertisement

কয়েকদিন ধরে নূর মোহাম্মদ ও আমানুল্লা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য গৃহবধূকে চাপ দিতে থাকে। ২২ জুলাই গৃহবধূর বাবার বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঝগড়ারচর গ্রামে গিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বলে। এতে রাজি না হলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়টি গৃহবধূ তার ভাই-ভাবিসহ স্বজনদের জানান। গত সোমবার গৃহবধূ ওই দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমানুল্লাকে রাতেই গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ধর্ষণের গৃহবধূ বলেন, মামার বাড়ি থেকে ফেরার পথে তেলেকান্দি চকে নুর মোহাম্মদ আমাকে রাস্তায় আটকে রেখে আমানুল্লাসহ সে তাকে ধর্ষণ এবং ভিডিও করে রাখে। পুনরায় তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে আমাকে প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ার ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে সোমবার রাতে থানায় মামলা করি।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি নূরে আলম জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গৃহবধূ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি ও গণধর্ষণ আইনে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যজনকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!