তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা প্রথমে অস্বীকার করে। কিন্তু শনিবার সন্দ্বীপ থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী শেফা বেগম একটি জিডি দায়ের করেছেন। জিডি দায়েরের পর বোটের মাঝি আবদুল কাদেরকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার সকালে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে গাছুয়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী আরেকটি ট্রলারের ইঞ্জিন মাঝসাগরে বিকল হয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে হৈচৈ করতে থাকেন। পরে যাত্রীরা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোস্ট র্ড ও পুলিশের সহযোগিতায় অন্য বোট এসে তাদের উদ্ধার করে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
শুক্রবার গুপ্তছড়া ঘাটের দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী শেফা বেগম জানান, তাদের বাড়ি মগধরা ১নং ওয়ার্ডে। দুর্ঘটনার দিন সকালে তার স্বামী চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপগামী সার্ভিস ট্রলারে ওঠেন। কিন্তু সকালে দুর্ঘটনার পর থেকে তার স্বামীর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে তিনি খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন সার্ভিস ট্রলার থেকে নামতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ নদীতে পড়ে ডুবে যান। তাকে অন্য বোট দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এ সময় তিনি ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, নদীতে যিনি পড়ে গেছেন তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বাড়িও চলে গেছেন। কিন্তু তার স্বামী এখনো বাড়ি ফিরেনি বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, ঘটনার সময় তিনি বোটেই ছিলেন। তিনি নিজ চোখে দেখেছেন মাঝি-মাল্লারা পড়ে যাওয়া ওই যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হননি। নিখোঁজ যাত্রীর শারীরিক বিবরণও দেন তিনি। এটির সঙ্গে মিলে যায় ডুবে যাওয়া যাত্রীর শারীরিক গঠন।
এদিকে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসার কাছে শুক্রবার গুপ্তছড়া ঘাটের উদ্ধারকারী লাল বোটের মাঝি আবদুল কাদের কেউ ডুবে যাননি বলে স্বীকারোক্তি দেন। কিন্তু শনিবার ভেসে যাওয়া যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই বলে স্বীকার করেন তিনি। এজন্য বোটের মাঝি আবদুল কাদেরকে আটক করেছে পুলিশ।
সন্দ্বীপ থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার তথ্য উদঘাটন করতে শনিবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়েছে।