শোকে পাথর জাহিদের দিন কাটছে স্ত্রী-সন্তানদের কবরের পাশে
স্ত্রী-সন্তানদের কথা চিন্তা করে সারা দিন পাগলের মতো নিজের সঙ্গে কথা বলেন জাহিদ। একসঙ্গে পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে অতি শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন জাহিদ। দিন কাটছে তার স্ত্রী-সন্তানদের কবরের পাশে।
রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট ছিটকে প্রাইভেটকারে পড়ে মারা যান জাহিদের স্ত্রী ঝর্না বেগম, ছয় বছরের শিশু সন্তান জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়া।
স্ত্রী সন্তান হারিয়ে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগ-পয়লা ঠেংগে পাড়ার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন জাহিদ আকন্দ।
জাহিদ আকন্দ বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছি। কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না তাদের কথা। কাদের নিয়ে সময় কাটবে এ ভাবনায় দিন-রাত কেটে যাচ্ছে। এখন মা ছাড়া পরিবারে আর কেউ নেই।
ভাগ্নি রিয়া মনির বিয়ের দাওয়াত খেতে ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সবাই আশুলিয়া যায়। শনিবার বিয়ে শেষে বাড়ি ফিরে আসি। এরপর সোমবার বউভাত শেষে ঝর্নাকে বাসে করে আসতে বলেছিল তার বাবা। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার ঢাকায় গিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মেলান্দহ বাড়িতে আসার কথা ছিল আমার। আমার ঝর্না শখের বসে প্রাইভেট কারে বসেছিল। এই শখটাই কাল হয়ে দাঁড়াল তার। আজ শখ পূরণ করতে গিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো তাকে।
জাহিদ ক্ষোভ করে বলেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল। আমাদের খোঁজ নিতে এখনো কেউই এলো না। হয়তো কয় দিন পরে কিছু সহায়তা নিয়ে আসবে। আমাকে সহায়তা করবে। কিন্তু তারা কি আমার পরিবারকে ফিরিয়ে দিতে পারবে?
গত ১৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট ছিটকে প্রাইভেট কারে পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচ আরোহী নিহত হন। দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন- ২৬ বছর বয়সী হৃদয় ও ২১ বছর বয়সী রিয়া মনি। তাদের বিয়ে হয়েছে ১৩ আগস্ট আর ১৫ আগস্ট ছিল বউভাত।
হৃদয়ের বাড়ি রাজধানীর কাওলায়। বউভাত শেষে কনের বাড়ি আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন তারা। হৃদয়ের বাবা রুবেল গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। রুবেল ছাড়াও যারা মারা গেছেন তারা হলেন- কনের মা ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝর্না বেগম, ৬ বছর বয়সী জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়া।