সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে ২৫৪ বছরের পুরোনো মসজিদ
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আওকরা মসজিদ। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ২৫৪ বছরের পুরোনো মসজিদটি।
জনশ্রুতি রয়েছে, কেউ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এর মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো। তা শুনে স্থানীয়রা ভাবতেন মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে। এ থেকে স্থানীয় শব্দ ‘আওকরা’ (কথা বলা)-এর সঙ্গে মিলিয়ে মসজিদের নাম রাখা হয় ‘আওকরা মসজিদ’।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আওকরা মসজিদকে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
.png)
জানা গেছে, ২৫৪ বছর আগে উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে চলা বেলান নদীর তীরে মীর্জার মাঠের সীমানায় চিকন ইট ও দেয়ালে নকশা করা মসজিদটি নির্মাণ করেন মির্জা লাল বেগ। এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল, তখন মির্জা লাল বেগ এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ সরকারের আমলে মুসলিমরা মসজিটির আশপাশের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে এটি অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে মসজিদটি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি পরিষ্কার করে টিনের ছাউনি, মাইক ও নলকুপ স্থাপন করে নামাজ আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু দ্রুত সংস্কার না হলে ঐতিহ্যবাহী নির্দশনটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা হাসান আলী বলেন, ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে নামাজ আদায় করা শুরু করেছি। সরকার দ্রুত মসজিটি সংস্কার করলে আমার ঝুঁকিমুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করতে পারতাম।
কান্তনগর প্রত্নতত্বিক জাদুঘর ও কান্তজির মন্দিরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মসজিদটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক মসজিদটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।