ঘটনাস্থল থেকে ঘুষের টাকাসহ দেলোয়ার, মহিবুল ও রিপন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার তিনজনকে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দেলোয়ার ও মহিবুলকে তিনমাস করে এবং রিপনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুদকের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
.png)
বুধবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুদকের অভিযান চলে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ঘুষের টাকা, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন আলামত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ব্রজবকসা গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে দেলোয়ার আলী, কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস আদর্শপাড়া এলাকার সলোক আলীর ছেলে রিপন আলী এবং কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাঁস মন্ডলপাড়ার মৃত সরোয়ার মন্ডলের ছেলে মহিবুল ইসলাম। তারা পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো।
দুদক জানায়, কুষ্টিয়া জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কার্যালয়ে নতুন পাসপোর্ট বিতরণ, পাসপোর্ট নবায়ন সেবা দিতে দালালদের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি দালালদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দেলোয়ার, মহিবুল ও রিপন নামের তিনজন দালালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
এছাড়া এনফোর্সমেন্ট টিম উপস্থিত বেশ কয়েকজন সেবা গ্রহীতার পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পাসপোর্ট অফিসে বিভিন্ন দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা আত্মসাত করে আসছিলেন তারা। দুদকের কর্মকর্তা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানানো হয়।
কুষ্টিয়া দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পাসপোর্ট অফিসে মানুষদের হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ ছিল দালালদের বিরুদ্ধে। অভিযানে সত্যতা পাওয়া গেছে। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।