ক্ষীর চমচম একটু রসালো হয়। চমচমের খাঁটি দুধের ছানার তৈরি মাওয়ার শুকনো গুঁড়া দিয়ে হয় ক্ষীর চমচম। যা এটিকে আরো সুস্বাদু করে তোলে। ক্ষীর চমচম ছাড়াও খাঁটি দুধের ছানা ও মাওয়া দিয়ে তৈরি নানা পদের মিষ্টি তৈরি হয় রাজবাড়ীতে। মানুষের কাছে এসব মিষ্টির চাহিদা ব্যাপক।
বর্তমানে দুধ, চিনি ও কারিগরদের মজুরি বেশি হওয়ায় ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে রাজবাড়ীর ক্ষীর চমচম। তবে উৎসব-পার্বণে দাম আরও বেড়ে যায়। সুস্বাদু হওয়ায় জেলা ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রাজবাড়ীর ক্ষীর চমচমের সুনাম ছড়িয়েছে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
.png)

মিষ্টি ব্যবসায়ীরা দুগ্ধ খামারিদের কাছ থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করে কারখানায় এনে দীর্ঘ সময় জ্বালিয়ে ছানায় রূপান্তর করে চমচম তৈরি করে। সে চমচম মিষ্টির রসের মধ্যে ভিজিয়ে রাখে। এছাড়া ছানা দিয়ে তৈরি নরম মাওয়াকে শক্ত মাওয়ায় পরিণত করা হয়। পরবর্তীতে মাওয়া ভেঙে চালনি দিয়ে চেলে গুড়া ক্ষীর বানিয়ে চমচমের ওপরে প্রলোপ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু ক্ষীর চমচম।

এদিকে রাজবাড়ী জেলা শহরে বহু মিষ্টির দোকান থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি দোকানের চমচম ও মিষ্টি উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ভাদু সাহা ও শংকর সাহা, হোসেন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মিষ্টি বাড়ি, বানিবহ দধি ভাণ্ডারসহ কয়েকটি দোকানের ক্ষীর চমচম বেশ জনপ্রিয়। ক্ষীর চমচম সুস্বাদু হওয়ায় অনেকে অর্ডার করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেটজাত করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বাইরে। মিষ্টির জগতে বহু বছর ধরেই রাজবাড়ীর চমচম বিখ্যাত।

চমচম এর পাশাপাশি পেয়ারা, সন্দেস, বর্ফি, কাটারীভোগ, রসগোল্লা, রসমালাই, কালোজাম, সাগর ভোগ, গোপাল ভোগ,স্পন্স মিষ্টিসহ বিভিন্ন পদের মিষ্টি রাজবাড়ীতে তৈরি হয়।
সরেজমিনে রাজবাড়ী জেলা শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্রেতারা মিষ্টি কেনার জন্য মিষ্টির দোকানে ভিড় করেছেন।

সুজন বিষ্ণু নামের এক ক্রেতা বলেন, আমাদের রাজবাড়ীর চমচম অনেক সুস্বাদু। শুধু দেশে নয় দেশের বাহিরেও এর সুনাম রয়েছে। আমরা নিজেরই যখন আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাই তখন এই চমচম নিয়ে যায়। অনেক সময় যখন তারা জানতে পারে তাদের বাড়িতে যাচ্ছি তারাই ফোন দিয়ে রাজবাড়ীর চমচম নিয়ে যেতে বলে। এই চমচম আমাদের জেলার মানুষ ছাড়াও অন্য জেলা ও দেশের বাহিরের মানুষও অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে কিনে নিয়ে যায়।
আরেক ক্রেতা রাফিজ বিশ্বাস বলেন, রাজবাড়ীর মিষ্টিটা আসলেই বিখ্যাত। রাজবাড়ীর চমচমের দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম আছে। দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন সুস্বাদু। আমি স্টুডেন্ট মানুষ আমরা বন্ধুবান্ধবরা মাঝে মধ্যেই দোকানে এসে এই চমচম খেয়ে থাকি।

হোসেন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ১৯৬৩ সালে আমার বাবা এই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। আমিও দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার করে যাচ্ছি। আমরা প্রতিদিন গাভীর খাঁটি দুধ সংগ্রহ করে তার ছানা দিয়ে তৈরি করি সুস্বাদু চমচম। এই চমচম আমাদের জেলা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও আমেরিকা সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। আমাদের এখানে ৮ ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হয়। নতুন নতুন আইটেম তৈরি করা হচ্ছে।
নির্মল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের রাজীব কুমার সাহা জানান, নির্মল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ভাদু সাহা নামে পরিচিত। গরুর দুধ দিয়ে তারা মিষ্টি তৈরি করি। কোনো গুড়া দুধ ব্যবহার করা হয় না। এর কারণে আমাদের দোকানের ক্ষীর চমচমের আলাদা সুনাম রয়েছে। মজাদার ও সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতারা দেশের বাইরে আমাদের দোকানের মিষ্টি নিয়ে যায়। এই সুনাম ধরে রাখতে মিষ্টির মান আরও ভালো করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।