৯০-এর দশকে যাত্রা শুরু হয় পারকোর খেলাটির। এরপর হলিউড সিনেমা ও বিভিন্ন কার্টুনের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এ খেলা।
ইউরোপ অঞ্চলে বেশ প্রচলন রয়েছে পারকোর। সম্প্রতি বাংলাদেশেও এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির বাসিন্দা সাজ্জাদ ও মিনহাজ। কলেজপড়ুয়া এ দুই তরুণ ছোটবেলা থেকে মত্ত পারকোরের নেশায়। পারকোর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চান তারা।
.png)

দাদার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও দুজনের জন্ম চট্টগ্রামে। এখানেই তাদের বেড়ে ওঠা। ৬-৭ বছর বয়স থেকে পারকোরের প্রতি আগ্রহ তাদের। শুরুতে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব থেকে ছিল নানা বাধা। বাবা-মায়ের হাতে খেতে হয়েছিল মারধরও। তবু দমে যাননি তারা।
ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় পারকোর নিয়ে নিজেদের ইচ্ছের কথা জানালেন এ দুই তরুণ। জানালেন নিজের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার স্বপ্নের কথাও।
দেশে এত প্রচলিত খেলা থাকতে অনেকটাই অপ্রচলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এ খেলাকে বেছে নেয়া প্রসঙ্গে সাজ্জাদ বলেন, ছোটবেলায় নিনজা হাতুড়ি কার্টুন দেখতাম। ওখান থেকেই এ ধারণাটি মাথায় ঢুকে যায়। এরপর ধীরে ধীরে চেষ্টা করতে শুরু করি। প্রথম প্রথম ব্যথাও পেয়েছিলাম। পরে দিনে দিনে নিজেকে প্রস্তুত করেছি।
তিনি বলেন, মানুষ ভাবে আমরা খামোকাই লাফালাফি করি। আসলে এটি যে একটি খেলা, তা অনেকেই জানেন না।
শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অপর তরুণ মিনহাজ বলেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মানুষ নানা কথা বলতেন। কেউ কেউ বলতেন- এটা করিও না, এটা ভালো না। নানাভাবে বাধা দিতেন। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেকেই সাপোর্ট দেন।

বহির্বিশ্বে প্রচলিত এ খেলা নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে একদিন বাংলাদেশের হয়ে এসব টুর্নামেন্ট থেকে ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবেন বলে আশা করছেন সাজ্জাদ ও মিনহাজ।
প্রাকটিস গ্রাউন্ডের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মিনহাজ বলেন, আমরা এখনো প্রাকটিস করছি। এ খেলার জন্য প্রাকটিস গ্রাউন্ড প্রয়োজন, যা আমাদের নেই। থাকলে হয়তো আমরা আরো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারতাম।
সাজ্জাদ বলেন, বিদেশে খেলতে যেতে হলে আরো প্রস্তুতি প্রয়োজন। কিন্তু সেই সাধ্য আমাদের নেই। কোনো স্পন্সর বা সহযোগিতা পেলে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা রাখি।