ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে মারছি’

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে মারছি’
আবেদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটক (ইনসেটে আহত হাসি)

গাজীপুরের শ্রীপুরে হাতে মেহেদি পরায় বোনের সামনেই স্কুলছাত্রীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মশিউর রহমান নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শ্রীপুর পৌর শহরের আবেদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর নাম তাইমুন নুসরাত হাসি। ১৪ বছর বয়সী হাসি একই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত মশিউর রহমান এখানকার প্রধান শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হওয়ায় প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়। কিন্তু অভিভাবককে স্কুলে আসতে বলেন অন্য শিক্ষকরা। পরে স্কুলে আসেন আমার বোন সিফাত। এরপর আমাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ছুটির কারণ জানতে চান প্রধান শিক্ষক। এ সময় আমার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মেহেদি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে বোনের সামনেই লাঠি দিয়ে আমাকে পেটাতে থাকেন। এতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি আমি।

Advertisement

ছাত্রীর বড় বোন সিফাত বলেন, স্কুল থেকে ফোনে হাসির অসুস্থতার খবর জানানো হয়। আমি যাওয়ার পর হাসিকে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক। পরে হাতের আঙুলে মেহেদি দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে থাকেন ‘মেহেদি পরতে পারো, আবার পেটে ব্যথা কি’। এ বলে লাঠি হাতে নিয়ে আমার বোনকে পেটাতে থাকেন তিনি। পেটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন ‘মন চাইছে তাই মারছি’। পরে আহত অবস্থায় হাসিকে মাওনা এ কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত আবেদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, মেহেদি পরা আমার স্কুলের নিয়ম নেই। তাই একটু শাসন করেছি। তবে বেশি পেটানো হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, বিষয়টি মুঠোফোনে জানিয়েছেন এক অভিভাবক। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!