ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাছ কেটে চলে তাদের সংসার

নাটোর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:৫১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
মাছ কেটে চলে তাদের সংসার
মাছ কাটছেন নারীরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সকাল থেকে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষায় বসে থাকেন অর্ধশতাধিক নারী। তাদের সামনে থাকে বঁটি ও ছাই। বাজার থেকে ক্রেতারা মাছ কিনে নিয়ে আসতেই দরদাম শুরু হয়। দুই পক্ষের চুক্তি হলেই শুরু হয় মাছ কাটা। আর কাটা শেষ হলেই ক্রেতার ব্যাগে দিয়ে দেন। এভাবে মাছ কাটার আয় দিয়ে সংসার চালান তারা।

নাটোর শহরের নিচাবাজারে এমন অনেক নারীই মাছ কাটা পেশায় জড়িত। এ পেশার আয় থেকে তারা দৈনন্দিন সংসারের সব খরচ নির্বাহ করেন। দিনদিন মাছ কেটে নেয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার প্রতিটি মাছের বাজারেই চোখে পড়ে মাছ কাটার দৃশ্য।

সরেজমিনে নিচাবাজারে দেখা যায়, সকাল থেকে সারিবদ্ধভাবে বঁটি ও ছাই নিয়ে অপেক্ষায় আছেন আয়েশা, জুলেখা, রহিমাসহ অর্ধশতাধিক মধ্যবয়সী নারী। তাদের মধ্যে কেউ দ্রুত ও যত্ন করে কাটছেন মাছ। কেউ কাজ পেতে ক্রেতাদের সঙ্গে করছেন দর কষাকষি। কাটা শেষ হলেই টুকরো মাছগুলো ক্রেতার ব্যাগে ভরে দিচ্ছেন।

Advertisement

ক্রেতারা বাজার থেকে মাছ কিনে ঝামেলা এড়াতে চলে আসেন মাছ কাটা নারী শ্রমিকদের কাছে। এরপর নারী শ্রমিকরা মাছের প্রকারভেদ অনুযায়ী কাটার দাম নির্ধারণ করেন। কেজিপ্রতি ছোট পুঁটি ও ট্যাংরা মাছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি মাছ ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং বড় মাছ ১৫ থেকে ২০ টাকায় কেটে থাকেন। প্রতিদিন একজন নারী মাছ কেটে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তাদের মাছ কাটা। এ বাজারে মাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন নারী। অনেকে জীবিকার তাগিদে এ পেশায় এসেছেন। তাদের কারও স্বামী রিকশা ও ভ্যান চালনা কিংবা দিনমজুর পেশায় আছেন। আবার কারো স্বামী মারা গেছেন। আবার কারো স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে তাদের ফেলে চলে গেছেন।

নিচাবাজারের মাছ কাটা শ্রমিক ডলি বেগম বলেন, আমি চার বছর ধরে এখানে মাছ কাটার কাজ করছি। মাছ কেটে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আমার সংসার চলে।

মর্জিনা বেওয়া বলেন, আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি। মাছ কেটে যা পাই, তা দিয়ে ঘরভাড়া আর সংসার খরচ কোনোমতে চলে।

একই বাজারের মাছ কাটা শ্রমিক আলিয়া বিবি জানান, তার স্বামী তিন বছর আগে বিয়ে করে এক সন্তানসহ তাদের রেখে চলে গেছেন। পরে তিনি মানুষের বাসায় কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু বাসার মালিক মাসে যে টাকা দিতেন, তা দিয়ে সংসার খরচ চালানো কষ্ট হতো। তিনি বেশি আয়ের জন্য মাছ কাটার কাজ বেছে নিয়েছেন।

জুলেখা বেগম বলেন, অনেক বাড়ির বউ-ঝিরা মাছ কাটতে চান না বলেই আমরা এ কাজ করি। মাছ কেটে দিয়ে যা পাই, তা দিয়ে চলে আমাদের সংসার।

মাছ কাটতে আসা রিয়াজ হোসেন লিটু বলেন, বাড়িতে বড় মাছ কাটা অনেক ঝামেলার বিষয়। এছাড়া বাসায় বড় মাছ কাটার অভিজ্ঞতা অনেকের থাকে না। এখানে দ্রুত মাছ কেটে দেন নারীরা। এজন্য এখান থেকে মাছ কেটে নিই।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার থেকে মাছ কেনার পর অনেকেই কেটে নিয়ে যান। অল্প টাকায় নারী শ্রমিকরা মাছ কেটে ধুয়ে দেন। এ কাজ করে প্রত্যেকে তাদের সংসারের হাল ধরেছেন। বাড়িতে ঝামেলা এড়িয়ে চলার জন্য প্রায় সবাই বাজার থেকে মাছ কেটে ধুয়ে নিয়ে যান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: নাটোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!