ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আত্মহত্যা প্ররোচনায় মামলা, যুবকের ৭ বছর কারাদণ্ড

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২১, ২৫ অক্টোবর ২০২২
আত্মহত্যা প্ররোচনায় মামলা, যুবকের ৭ বছর কারাদণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আত্মহত্যার প্ররোচলায় মামলায় নওগাঁয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে আসামি বকুল হোসেন নামে এক যুবককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মামলার রায় প্রদান করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মেহেদী হাসান তালুকদার।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি বকুল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বকুল হোসেন জেলার বদলগাছী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

Advertisement

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট মো. মকবুল হোসেন এবং এবং আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নাজমা আক্তার কলেজে আসা-যাওয়ার পথে একই গ্রামের যুবক বকুল হোসেন উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি নিয়ে নাজমা আক্তারের বাবা তাদের পরিবারকে একাধিকার অবগত করাসহ বিরক্ত না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনো কথায় কর্ণপাত করতেন না বকুল হোসেন। গত ২০০৭ সালের ৭ জুন বিকেলে কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার বাড়ির পাশে গাছের নিচে পড়ে থাকা আম নিতে গেলে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বকুল। নাজমা বাড়ি এসে তার বাবাকে জানান এবং বিচার দাবি করেন। বিচার না পেয়ে ক্ষোভে ঘটনার তিনদিন পর ১০ জুন বিষপানে আত্মহত্যা করেন নাজমা আক্তার। 

ঘটনার পর নিহতের ভাই আমেদুল ইসলাম থানায় মামলা করতে গেলে তাকে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বকুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে বাবা মকবুল হোসেন ও মা জান্নাতুনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগ করা হয়। এরপর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করতে নির্দেশনা দেয় আদালত। বদলগাছী থানায় একই বছরের ১৫ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়। 

মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বকুল হোসেন ছাড়া বাকি তিন আসামির কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আদালতের প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে বাদী ২০০৮ সালের ২৫ জুন নারাজি দরখাস্ত দাখিল করেন। মামলার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামি বকুল হোসেন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকি তিন আসামির কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়।

মামলার রায়ে সন্তুষ্ট জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মকবুল হোসেন বলেন, আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাদী তার ন্যায় বিচার পেয়েছেন। এ ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে কেউ যেন আর না করার সাহস পায় সেজন্যই এই কারাদণ্ড ও জরিমানা।

আসামি পক্ষের আইনজীবী প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিচারে তারা সন্তুষ্ঠ না। ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: কারাদণ্ড
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!