ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা কেন্দ্রে আজহারুল

মদন  (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৩, ৬ নভেম্বর ২০২২
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা কেন্দ্রে আজহারুল
ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

জন্ম থেকেই দুই পা উল্টো সরু-বাঁকা। তারপরও স্বপ্ন জয়ে বিভোর থেমে নেই অদম্য শারীরিক প্রতিবন্ধী  আজহারুল।  শত বাধা উপেক্ষা করে হামাগুড়ি দিয়ে এবার মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও হার মেনেছে তার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে। লক্ষ্য ভাল একটি লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।

এমনকি তার দুই হাতও বাঁকা। এরপরও দুই হাতের ওপর ভর করে স্বপ্ন জয়ের পথে এগিয়ে চলছে আজহারুল ইসলাম। অদম্য ইচ্ছা আর স্বপ্ন জয়ের দারুল আগ্রহ রয়েছে তার। তার বাড়ি থেকে ১৩ কিলোমিটার দূর পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে আজহারুলের। দুটি হাতের কুনই তার ভরসা।

তবে আজহারুল প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে কলেজে আসত । তিনি এইচএসসি পরীক্ষা হাতে লিখেই দেবে বলে জানিয়েছে।

Advertisement

আজহারুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে। বালালী বাঘমারা শাহজাহান মহাবিদ্যালয়  থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি। বাবা মনির উদ্দিনের ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর ধরে দুই হাতে ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে  বালালী বাঘমারা শাহজাহান কলেজে নিয়মিত আসত আজহারুল। যদি অটো কিংবা রিকশা দিয়ে আসতে হয় তাহলে প্রতিদিন খরচ হয় ৬০/৭০ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ দশমিক ৮৩ পেয়ে কৃতকার্য হয়। জেএসসিতে পায় ২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট ও এসএসসি তে পায় ২.৮৯।

রোববার (৬ নভেম্বর) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আজহারুল আসলে মদন সরকারি হাজি আব্দুল আজিজ ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় মূল গেটের পাশে দেখা হয় তার সঙ্গে।

এ সময় আজহারুল ইসলাম  বলেন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। এ জন্য প্রতিদিন স্বপ্ন দেখছি বড় হওয়ার।

কেন্দ্র সচিব কলেজ অধ্যক্ষ মো. শফিকুর রহমান জানান, হামাগুড়ি দিয়ে আজহারুল আজ আমাদের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসেছে। অতিরিক্ত সময়ের জন্য সে একটি আবেদন করেছে। আমি আবেদনটি মঞ্জুর করেছি এবং  তাকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে  সার্বিক সহযোগিতা করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!