চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে দুইশ থেকে আড়াইশ মিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে খবর পেয়ে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে আসে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। তবে দুর্ঘটনার পরই পালিয়ে যান চালক।
মাইক্রোতে থাকা প্রথম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে রুমান রুসনী জানায়, ‘অনেক দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি (হুইশেল) শুনতে পাচ্ছিলাম। আমরা মাইক্রো থেকে নেমে যেতে চেয়েছিলাম, তখন ভাইয়া (চালক) বললেন যে কিছু হবে না, তোমরা বসে থাকো, ট্রেন চলে যাবে।’
.png)
রুসনীর নানা ওমর ফারুক বলেন, ‘যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখনই রিকশা লিয়্যা বাড়ি আসছিনু, দেখি হামার নাতিনের স্কুলের মাইক্রো ট্রেনে ধাক্কা ল্যাগা পড়া আছে। তখন হ্যামি রুসনী, হামারঘে পাড়ার মেহেরারকে রিকশাতে কর্যা বাড়ি লিয়্যা আসি। হামার নাতিনের ঘাড়ে ল্যাগাছে, মেহরাবের হাতে লাগাছে।’
এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজর অধ্যক্ষ সঞ্জয় কুমার জানান, ‘সকালে শিক্ষার্থীদের বাসা থেকে স্কুলে নিয়ে আসার পথে মাইক্রোবাসটির তেল (জ্বালানি) শেষ হয়ে যায়। তখন চালক, আমাদের আরেকটি মাইক্রোবাসের চালককে ফোন দিয়ে হাজির-মোড় এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেতে বলে। ওই মাইক্রোটি অন্যদের স্কুলে নামিয়ে, যেখানে যাচ্ছিল। তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। মাইক্রোর ক্ষতি হলেও শিশুরা অক্ষত ছিল। মাইক্রোবাসটি রেললাইন থেকে আরেকটু দূরে রাখলেই দুর্ঘটনা ঘটত না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন মাস্টার শহিদুল আলম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইশ্বরদীগামী ডাউন ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এর দুই-তিন মিনিটের মাথায় রেলস্টেশন ও হাজির মোড়ের মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশেই পার্ক করে রাখা একটি স্কুলের শিক্ষার্থীবহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাইক্রোবাসটিতে থাকা বাচ্চাগুলো অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। খবর পেয়ে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে আসে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনের রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাস্থল ও মাইক্রোবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। মাইক্রোবাসটি তাদের হেফাজতে থাকলেও পলাতক রয়েছেন চালক। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।