হত্যা মামলায় ১৭ বছর পর বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় পাওয়ারটিলার চালক এনামুল হক হত্যা মামলার প্রায় ১৭ বছর পর বাবা-ছেলেসহ চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ আদেশ দেন জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নুর ইসলাম। এ সময় খালাস পেয়েছেন একই এলাকার কোরবান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, সোলায়মান আলীর ছেলে আলীম ও মোস্তফার ছেলে শাহাদত ওরফে শাহাদুল।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদশা ইউপির ফরিদপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে রমজান আলী, তার দুই ছেলে রঞ্জু ও শাহীন এবং রেজাউল ইসলামের ছেলে হান্নান। তাদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন রঞ্জু।
.png)
জানা যায়, ২০০৫ সালের ৫ ফ্রেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এনামুল হক পার্শ্ববর্তী বজরপুর গ্রামে ভগ্নিপতি আবু বকর ভাদসার বাড়িতে পাওয়ার টিলার নিতে যান। পর পর দিন সকালে এনামুলের বাড়িতে পাওয়ার টিলার পৌঁছে দেবেন বলে জানান ভগ্নিপতি। বাজার পর্যন্ত এনামুলকে এগিয়ে দিয়ে ভাদসা নিজ বাড়িতে চলে যান। কিন্তু রাতে আর এনামুল বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন এনামুলের বাড়ি থেকে প্রায় সাতশ গজ দূরে এক কৃষক ভোরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখতে পান, মাঠের মধ্যে কিছু ফেলে চলে যান চারজন লোক। পরে ওই কৃষক সেখানে গিয়ে দেখতে পান এনামুলের মরদেহ।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই ঘটনায় জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম আকন্দ কুড়ানোর ছেলে রমজান আলীর নাম বাদ দিয়ে ২০০৫ সালের ৪ মে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯ জনের সাক্ষ্য শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নুর ইসলাম।
সরকার পক্ষের আইনজীবী নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পিপি বলেন, ‘দীর্ঘ শুনানি শেষে চারজনের যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। এরমধ্যে পলাতক রয়েছেন রঞ্জু।
মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তরুণ, হেনা কবির ও ফরিদুজ্জামান।