বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বিশ্বাস (৫৩)। আখতারুজ্জামান বিশ্বাস আলামপুর ইউনিয়নের দহকুলা তেকোনা পাড়া এলাকার মৃত মইনুদ্দিন বিশ্বাসসের ছেলে। তার ভাই হাবিল উদ্দিন বিশ্বাস (৪৯) ও বাবলু বিশ্বাস (৪৬), একই গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে মাহমুদুল হাসান সবুজ, কামরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিদ্যুৎ (৩৪), মৃত জলিল গাইনের ছেলে মাসুদ গাইন (৩৮)।
.png)
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মাসুদ গাইন ও বিদ্যুৎ পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর পরই তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় ৩ জনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ মামলায় ১৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে মোল্লা মাসুদ করিম লাল্টুকে কুপিয়ে হত্যা করে আসামিরা। নিহতের ভাই মাহবুবুল করিম মোল্লা আসামিদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত মোল্লা মাসুদ করিম লাল্টু দহকুলা গ্রামের সোহরাব উদ্দিন মোল্লার ছেলে।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার আসামিদের শাস্তির আদেশ দেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।