ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সুগন্ধি কালিজিরা ধানের বাম্পার ফলন

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া
প্রকাশিত: ১২:২৫, ১৭ নভেম্বর ২০২২
সুগন্ধি কালিজিরা ধানের বাম্পার ফলন
মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে সুগন্ধি কালিজিরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি আমন মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে কাঁচা সবুজ আর হলুদে ধান। সেই সঙ্গে সবুজ ক্ষেতের মাঝে শোভা পাচ্ছে ‘সুগন্ধি কালিজিরা’ ধান। সুগন্ধ যুক্ত এই ধানের ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় দিন দিন এ ধানের আবাদ বাড়ছে। 

একাধিক কৃষক জানায়, এক সময় কালিজিরা ধান খেতে খুবই সুস্বাধু হওয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় ৩০ বছরের ব্যবধানে উফশী ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান জায়গা দখল করে নিলে ও সৌখিন কৃষকরা এ ধানকে আজো ধরে রেখেছেন। 

Advertisement

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ হেক্টর জমিতে কালিজিরা ধান আবাদ করা হয়। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ও প্রকৃতি ধান চাষের অনুকূলে থাকায় মাঠে কোনো রোগ বালাই না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। অন্য জাতের ধান আবাদে বিঘা প্রতি যেখানে ১৭-২২ মণ ধান পাওয়া গেলেও কালিজিরায় ৫-৬ মণ ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়। 

কৃষকরা জানানা, এ ধান আবাদে সার, সেচ ও পরিচর্যাও কম লাগছে। লোকসান নেই বললেও চলে। এজাতের ধান সাধারণত কালো বর্ণের হয়। অন্য ধানের চেয়ে এর আকার ছোট হয়। তবে ফলন কম হলেও এখনো গ্রামের সৌখিন গৃহস্থ পরিবারের কাছে এ ধানের কদর যথেষ্ট রয়েছে। 

মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে সুগন্ধি কালিজিরা

জানা গেছে তারাগন, উমেদপুর, আদমপুর, ধাতুরপহেলা, তুলাবাড়ি, মোগড়া, দরুইনসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের পাশাপাশি সৌখিন কৃষকরা সুগন্ধি জাতের কালিজিরা ধান আবাদ করা হয়। মাঠ জুড়ে এখন সুগন্ধি  ধানের সমারোহ। এরই মধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাঠজুড়ে কালিজিরা ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। গাছের উচ্চতাও রয়েছে ভালো। এ মৌসুমে ধান চাষে রোগ বালাই না থাকার ফলে  ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা খুবই খুশি। তাই  সৌখিন কৃষকরা মৌসুম অনুযায়ী সব সময় এই ধানটি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ জাতের ধান আগে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আবাদ হতো। কিন্তু এসব ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকরা বীজ আমদানির ওপর নিভর্রশীল হয়ে পড়েন। এর ফলে সৌখিন কৃষকরা জনপ্রিয় কালিজিরা, বেগুনবিচি, জামাইভোগসহ নানা জাতের দেশি ধান ধরে রেখেছেন। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ জাতের ধান আবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বা প্রদর্শনী গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। 

কৃষক মো. রমজান মিয়া বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ মৌসুমে ও প্রায় ২৫ শতক জমিতে কালিজিরা ধানের আবাদ করেছি। বর্তমানে ফসলের অবস্থা খুবই ভালো। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা যাবে। এই জমিতে ৪ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।  

তিনি আরো বলেন, গত মৌসুমে প্রতি কেজি কালিজিরা ধানের চাল ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। সাধারণত আমন মৌসুমে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের চাল বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। দ্বিগুণ লাভের আশায় কালিজিরা ধান আবাদ করেছি।  

কৃষক মো. মোবারক হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ৩০ শতক জায়গায় কালিজিরা ধান আবাদ করছি। অন্যান্য ধানের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। এই সুগন্ধি চিকন চাল দিয়ে পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির-পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। এলাকায় এ ধানের ভালো কদর রয়েছে। বর্তমানে বাজারে কালিজিরা চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৭-৮ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারবো। 

আদমপুর গ্রামের কৃষক তামসু মিয়া  জানান, এক সময় অবস্থা সম্পন্ন সৌখিন কৃষকরা সুগন্ধি কালিজিরা ধান চাষ করতেন। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ধানের চাষ করছেন। এই মৌসুমে তিনি ২৫ শতক জায়গায় ধান কালিজিরা ধান আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খুশি।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় আমনসহ সুগন্ধি যুক্ত কালিজিরা ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা নিজ আগ্রহে কালিজিরা জাতের ধান চাষ করেন। এ ধানটি দেশীয় জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম। এই সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। এই ধানে উৎপাদন খরচ কম থাকায় ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কৃষকদের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ধানের ফলন ভালো রাখতে কৃষকদেরকে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!