ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ, ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫১, ৪ ডিসেম্বর ২০২২
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ, ঝুঁকিতে স্থানীয়রা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প- ফাইল ফটো

চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ঘরে গিজগিজ করছে নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ একাধিক কারণে চর্মরোগ বাড়ছে। এরই মধ্যে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও চর্মরোগের সংক্রমণ হতে পারে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ঘরে একাধিক নারী-শিশু-কিশোর এ রোগে আক্রান্ত।

মধুরছড়া ক্যাম্পের নুরুল আমিন বলেন, এমন কোনো রোহিঙ্গা পরিবার নেই, যেখানে চর্মরোগী নেই। একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ।

Advertisement

রোকেয়া বেগম নামের এক রোহিঙ্গা গৃহবধূ বলেন, ২০ থেকে ২৫ দিন আগে চর্মরোগে আক্রান্ত হয় তার দেড় বছর বয়সী এক শিশু। মাথার তালুতে বড় বড় দাগ পড়েছে, ব্যথা ও যন্ত্রণায় সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে।

বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, ত্রিপলের ছাউনির নিচে গাদাগাদি করে লাখ লাখ রোহিঙ্গার দিন কাটছে। রয়েছে পানির সংকট। পানি না থাকায় এবং স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার না করায় ক্যাম্পগুলোতে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। 
শিবিরগুলোতে একটি শৌচাগার ও গোসলখানা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে কমপক্ষে ১৫টি রোহিঙ্গা পরিবার। একটি নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোহিঙ্গা। এসব কারণে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

হাকিমপাড়া ক্যাম্পের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চর্মরোগের চিকিৎসা নিতে এসেছেন শতাধিক রোহিঙ্গা। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগের কারণে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু।

ঐ হাসপাতালের চিকিৎসক কামাল উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়া এ রোগের নাম স্ক্যাবিস। এক ধরনের ছোঁয়াচে চর্মরোগ এটি। সাধারণত বিছানা ভাগাভাগি ও একই কাপড় বিভিন্নজন ব্যবহার করলে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগের প্রধান উপসর্গ চুলকানি। চুলকানির কারণে ক্ষত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে কিডনি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা থাকে।

বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত ৮ মাসে (১৪ মার্চ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত) এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৭৮ হাজার স্ক্যাবিস আক্রান্ত রোহিঙ্গা রোগী। এছাড়া অন্যান্য হেলথ সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন আরো ২১ হাজার ২০০ জনের বেশি রোগী। এর মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চর্মরোগ আগের তুলনায় বাড়ছে জানিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী চিকিৎসক আবু তোহা এম আর ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

দেড় লাখ রোহিঙ্গার কুতুপালং ক্যাম্পের পাশেই উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং গ্রাম। এ গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার বাংলাদেশির বসতি। স্থানীয় রাজাপালং ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের স্ক্যাবিস রোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বলেন, স্ক্যাবিস মহামারি আকারে ছড়ানোর শঙ্কা নেই। এটি স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। রোগ নিয়ে স্থানীয়দেরও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রোহিঙ্গারা ছোট্ট একটি ছাউনির নিচে পাঁচ থেকে ১০ জন গাদাগাদি করে থাকেন। ক্যাম্পে ঘনবসতি হওয়ায় একজনের হলে দ্রুত অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে এ রোগ। চিকিৎসা নিলে ভালো হয়ে যায় এ রোগ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: কক্সবাজার
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!