‘এমন জাহাজ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টা নেই’
রিমোটেই চলবে জাহাজ। তাও যুদ্ধ জাহাজ হিসেবে। দুর্যোগেও থাকবে না কোনো বাধা। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে চলবে রিমোট নিয়ন্ত্রিত জাহাজটি। ওয়াটার প্রুফ হওয়ায় ডোবারও নেই আশঙ্কা। এমনকি শত্রু দেখলেই দেবে সংকেত।
এমনই রোবোটিস্ট স্পেশাল অপারেশন মনিটরিং বোট বা জাহাজ বানিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নূরে বেলায়েত আকাশ। তার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ গ্রামে। তিনি একই গ্রামের আবু তাহের সিরাজের ছেলে।
মাত্র ২৮ দিনেই জাহাজটি বানিয়েছেন আকাশ। জাহাজ নির্মাণে বাস্তব ধারণা না থাকলেও ইউটিউব আর গুগল দেখে নিজের মেধা খাটিয়ে বাহনটি বানান তিনি।
.png)
সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন এ জাহাজটি নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য বানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আকাশ। এর বাস্তব রূপ দিলে প্রযুক্তিতে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও মনে করেন এ যুবক। আকাশের জাহাজটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ।
আকাশ বলেন, স্যানসোর, লাইভ ক্যামেরা ও স্যাটেলাইটসহ নানা প্রযুক্তিনির্ভর রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমের এ জাহাজটি দেখলেই দুর্বার গতিতে চলার ক্ষমতা সম্পর্কে অনুমান করা যায়। যেকোনো দুর্যোগের মধ্যেও স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারবে কোনো বাধা ছাড়াই। জাহাজটি ১০ কিলোমিটার অদূরের শত্রুপক্ষ বা বাধা-বিপত্তি গতিবিধি নজরদারি করতে পারবে। দেবে সংকেতও। এছাড়া ড্রোন ফ্লাই করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা, টহল অভিযান ও যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের জাহাজ সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি। আমার বানানো এমন জাহাজ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টা নেই। এটিই প্রথম প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ। এটি নাবিকবিহীন রিমোট কন্ট্রোল ও নাবিক নিয়েও চালানো যাবে।
সরকারি সহায়তা পেলে এ জাহাজের বাস্তব রূপ দিতে পারবেন বলে মনে করছেন আকাশ। বাস্তব রূপ পেলে পৃথিবীতে বিরল হয়ে উঠবে এ জাহাজ।
স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর, মো. সুমন ও শেখ সাদি বলেন, আকাশের বানানো জাহাজ দেখতে এসেছি আমরা। আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের এ নতুন বিজ্ঞানীর প্রতিভার মূল্যায়ন করার দাবি জানাই।
আকাশের বানানো জাহাজটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান।
তিনি বলেন, মেরিন জাহাজটি যিনি নির্মাণ করেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এটি উপযুক্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
বিজ্ঞান শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ২০২০ সালে বরিশাল মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ কোর্স করলেও জাহাজ প্রকৌশল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই আকাশের। তবু জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল ও ইঞ্জিন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে তার।