রাতভর সমুদ্রে ভয়াবহ যাত্রা, ১৪ ঘণ্টা পর সেন্টমার্টিন থেকে ফিরল জাহাজ
সেন্টমার্টিন থেকে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর কক্সবাজারে ফিরেছে পর্যটকবাহী জাহাজ বে ওয়ানের যাত্রীরা। বুধবার ভোর ৫টার দিকে কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পৌঁছে বে ওয়ান থেকে পর্যটকদের স্থানান্তরিত হওয়া বার আউলিয়া জাহাজটি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা জাহাজটি রাত ৯টার দিকে গভীর সমুদ্রে আটকে যায়। জাহাজটিতে ছিল ১৩০০ পর্যটক। ওই সময় জাহাজে থাকা পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন বাঁচার আকুতি।
ফেরত আসা পর্যটকরা জানান, শিশু এবং বয়স্ক মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। অনেকে বসার জায়গা না পাওয়ায় ১৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সমুদ্রযাত্রা করেছেন।
ঢাকা থেকে আসা এক দম্পতি জানান, সমুদ্র উত্তাল ছিল, এ সময় বারবার বলার পরও কর্তৃপক্ষ লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করেনি। সেইসঙ্গে তিনটি আলু সিংগারার দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। এক প্লেট খিচুড়ির দাম রাখা হয়েছে ২৫০ টাকা।
অপর এক পর্যটক জানান, তিনি সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে টিকেট কিনেছেন কেবিনের, তাকে খাবারও দেয়া হয়নি। তার স্ত্রী জানান, বাচ্চাদের নিয়ে রাতভর সমুদ্রে ভয়াবহ সময় পার করেছি।
কর্ণফুলী ক্রুজ লাইনের কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম জানান, জোয়ার ভাটাজনিত কারণে কক্সবাজার থেকে বারো আউলিয়া জাহাজে করে গভীর সমুদ্র থেকে কক্সবাজার ঘাটে যাত্রীদের ফেরত আনতে সময় লেগেছে। এতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেই লাইফ জ্যাকেট দেয়া হয়নি। জাহাজে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল।
তিনি আরো বলেন, সবাইকে খাবার দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। খাবারের অতিরিক্ত দাম নেয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাহাজের খাবারের দোকান কর্তৃপক্ষ অন্যজনকে ভাড়া দিয়েছে, এখানে জাহাজ কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ,তবে দুর্ঘটনা নয়। সব যাত্রী নিরাপদে ফিরেছে।