সাগরে ভাসছে জাহাজ, ১৩০০ পর্যটকের বাঁচার আকুতি
মঙ্গলবার বিকেল তখন সাড়ে ৩টা। ওই সময় সেন্টমার্টিন থেকে ১৩০০ পর্যটক নিয়ে রওনা দেয় ‘বে ওয়ান জাহাজ’। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা পর্যটকবাহী জাহাজটির। কিন্তু ১৪ ঘণ্টা পেরলেও কক্সবাজার পৌঁছেনি। সাগরে ভাসছে জাহাজটি। জাহাজে থাকা পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে জানাচ্ছেন বাঁচার আকুতি। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্টমার্টিনে।
জানা যায়, মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে ইঞ্জিন ক্রুটি দেখা দেয়। পরে ‘এমবি বে-ওয়ান নামের জাহাজে’ পর্যটকদের সেন্টমার্টিন নেয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে এমবি বে-ওয়ানের মাধ্যমে ১৩০০ পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জাহাজে ওঠার কিছুক্ষণ পরই আটকা পড়ে জাহাজটি। প্রায় ১৪ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার কারণে নানা বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ পার করেছেন পর্যটকরা।
এদিকে, জাহাজে থাকা পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে জানান, জাহাজের ত্রুটির কারণে ধীরগতি ও তাদের দুর্ভোগের কথা। শুধু তাই নয়, উঠে এসেছে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার নানা বিষয়ও।
পর্যটকরা জানান, এ বছর টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী নামক একটি জাহাজ চলাচল করে। পর্যটক মৌসুম হাওয়ায় পর্যটক বেশি হাওয়ায় কর্ণফুলির পরিবর্তে বে ওয়ান জাহাজ চলাচল করে। তবে দিন দিন এই জাহাজ ভ্রমণ রীতিমতো দুর্ভোগ হয়ে উঠেছে।
অপরদিকে, এক পর্যটক মোবাইলে কল দিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো তীরে পৌঁছাতে পারেনি। এরমধ্যে নেই কোনো পানি ও খাবারের ব্যবস্থা। জাহাজ কর্তৃপক্ষের খোঁজখবর নেই। জাহাজে থাকা অনেক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মিরাজ নামে আরেক পর্যটক বলেন, যে দুর্ভোগ তার কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। ছেলেমেয়ে নিয়ে কী যে একটা অবস্থা। জাহাজ আটকা পড়ছে, অথচ কর্তৃপক্ষের যে আচরণ তাতেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন ট্যুর অপারেটর জসিম উদ্দিন শুভ।
তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের বাঁচান। একদিকে জাহাজে পথে পথে হয়রানি অন্যদিকে বাস মিস করাই মধ্যবিত্ত পরিবারদের কান্না দেখে নিজের চোখের পানি চলে আসে। তারমধ্যে অফিস থেকে বস দিচ্ছে বকা। যেমনি হোক চাকরি বাঁচাতে আগামীকালকে সকাল ১০টার মধ্যে অফিসে হাজির হতে হবে। কিন্তু আমরা এখনো সাগরে ভাসতেছি। দেখার কেউ নাই। নাই কোনো খাবার। দোকানপাট বন্ধ। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও বার আউলিয়া নাম দিয়ে বুকিং নিয়ে দুই শিপের যাত্রী এক শিপ করে অর্থাৎ বে ওয়ান শিপে করে কয়েকদিন ধরে বে ওয়ানকে হাইলাইট করতে যাওয়া আসা শুরু করছে। কোম্পানি তারই ধারাবাহিকতায় কবলে পড়ে ভ্রমণে আসা আজ প্রায় ২ হাজার পর্যটকের বাস মিস হয়েছে। এর দায়ভার কে নেবে, কেউ কি বলতে পারবেন?’