ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রংপুরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৭, ২৫ ডিসেম্বর ২০২২
রংপুরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর। শেষ দিনের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে নগরী। ভোট উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হবে ১০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। 

এবারের নির্বাচনে মাঠে থাকবেন ৪৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট। এর মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৩৩ জন এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১৬ জন। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে এরই মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে কাজ শুরু করছেন তারা।

Advertisement

এদিকে, বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৫ ডিসেম্বর থেকে পাঁচদিন আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর নির্বাচনী এলাকায় ২৫ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রংপুর সিটির ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে মক ভোট। ইভিএমে ভোট দেওয়ার এই শিখন কার্যক্রম চলবে ৩ দিন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটার শিখন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিখন কার্যক্রমে ভোটাররা ইভিএমে ভোটদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে নির্বাচন হবে। এজন্য রংপুরে ৩ হাজারের বেশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন চলে এসেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও শেষের দিকে।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ইভিএম রংপুর নির্বাচন ভবনে রাখা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনীত ব্যক্তিরা ইভিএম কাস্টমাইজেশন সেন্টারে উপস্থিত হয়ে কাস্টমাইজেশনের বিভিন্ন দিক অবলোকন করতে পারবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রশিক্ষিত দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কারিগরি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ভোটগ্রহণের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণের আগের দিন ২৬ ডিসেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের বিপরীতে ব্যালট ইউনিটে প্রতীক সন্নিবেশিত রয়েছে কিনা তা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা যাচাই করবেন।

গত ৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রংপুর নগরী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। বসে নেই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক, আত্মীয় স্বজনরাও। বিভিন্নস্থানে পথসভা ও গণসংযোগে শীতের আমেজ কেটে এখন সবাই ব্যস্ত ভোটের আমেজে। প্রার্থীরা নিজেকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ডিজিটাল মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণের দিন ঘনিয়ে আসায় জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।

সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব হোসেন জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে প্রার্থীদের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। প্রতীক বরাদ্দের পর তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। আচরণবিধি প্রতিপালনে সবাইকে বারবার উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে। পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি জনবহুল এলাকাগুলোতে ইভিএম প্রদর্শন করা হয়েছে। এখন মক ভোট কার্যক্রম চলছে। সবমিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ভোটগ্রহণের আগে ও পরে নির্বাচনী অপরাধ রোধে পাঁচদিন দায়িত্ব পালন করবেন ৪৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট। এদের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩৩ এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ১৬ জন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: রংপুর রসিক
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!