পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস, মিষ্টি নিয়ে রাসেলের বাড়িতে ডিসি
এক পায়ের আঙুল’ দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সেই রাসেল মৃধাকে দেখতে ছুটে গেলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ। এসময় তিনি রাসেলের শারীরিক ও তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।
বুধবার দুপুরে সিংড়া উপজেলার শোলাকুড়া মহল্লায় রাসেল মৃধাকে দেখতে তার বাড়িতে ছুটে যান তিনি।
এ সময় রাসেলের পরিবারের জন্য শীতবস্ত্র, মিষ্টি এবং রাসেলকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। তার পড়ালেখার যাবতীয় দায়িত্ব জেলা প্রশাসন বহন করবে বলে আশ্বাস দেন।
.png)
রাসেল মৃধা শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে জিপিএ ৩.৮৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সিংড়া উপজেলার শোলাকুড়া মহল্লার দিনমজুর আব্দুর রহিম মৃধার ছেলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল-আমিন সরকার, সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবন্ধী রাসেল মৃধা বলেন, আমার দুটো হাত নেই, একটি পা নেই। এক পা দিয়ে লিখে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৩.৮৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। যেন সামনের দিনগুলোতে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারি। আমার অনেক ইচ্ছা লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে একটি চাকরি করবে। আমার বাবা-মার সকল দায়িত্ব নেব। তারা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। আমার ফলাফলের জন্য আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
রাসেল আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যার আমাকে দেখতে আমার বাসায় এসেছেন। আমার পরিবারের জন্য শীতবস্ত্র, খাবার ও আমাকে আর্থিক ভাবে সহায়তাও করেছেন। এজন্য ডিসি স্যারের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি। এ ভাবেই আমাকে ভালোবেসে যাবেন। ডিসি স্যারের মতো সৎ ও আদর্শ মানুষ হতে পারি আমার জন্য দোয়া করবেন।’
ডিসি শামীম আহমেদ বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও রাসেলকে কোনো বাধা পিছিয়ে ফেলতে পারেনি। রাসেল এক পায়ের আঙুল দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। মনের শক্তিতে সে এগিয়ে চলছে। তার পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। তাকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।