বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার শাজাহানপুর নিশ্চিন্তপুর মধ্যপাড়া গ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন হবিবুর রহমান।
তিনি জমি সংক্রান্ত বিরোধের ওই হামলার শিকার ব্যক্তি। তার প্রতিপক্ষের বাড়ি থেকে ঘটনার দিন অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ।
.png)
অভিযোগ রয়েছে, নিশ্চিন্তপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা হবিবুর রহমানের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৬৯ শতক জমি মাস পাঁচেক আগে দখলে নেন একই গ্রামের জামাল উদ্দিন ফকির। এই জমির অংশীদার হবিবুরসহ তারা আট ভাই-বোন। সন্ত্রাসী বাহিনীর উপস্থিতিতে জামাল জমি দখলে নেন। এ ঘটনার পর আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা করেন হবিবুর। মামলা চলমান।
এরমধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে ওই জমি থেকে মাটি উত্তোলন করা শুরু করেন জামালসহ তার লোকজন। ওই সময় বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন হবিবুর, তার ভাতিজা সৈকত (১৭), বাবা মাফিজ উদ্দিন (৯০) ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৪০)।
তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তাদের লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয়। এছাড়াও হবিবুরের দুই ভাতিজি সুমি (২২) ও সম্পাকে (১৮) শ্লীলতাহানি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে হবিবুর রহমান বলেন, জামাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে নুর আলমসহ অন্যরা আমাদেরকে যখন মারধর করেন, তখন গ্রামের লোকজন একত্র হয়ে এগিয়ে আসেন। তখনই নুর আলম নিজ বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন। ওই সময় স্থানীয়রা নুর আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা এসে একটি চাইনিজ কুড়াল, রামদা, বার্মিজ চাকু ও একটি লোহার রডসহ নুর আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মারধরের ঘটনায় আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাহিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর নুর আলমকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
তিনি অভিযোগ করেন, নুর আলমকে আটকের সময় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করলেও জব্দ তালিকায় সেসব উল্লেখ করেনি পুলিশ। এমনকি আমরা এজাহারে এসব লিখতে গেলেও অস্ত্রের কথা উল্লেখ করতে দেয়নি থানা পুলিশ।
জমি দখলে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন ফকির এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
হবিবুর রহমান বলেন, বছর দুয়েক আগে জামালরা ভুয়া কাগজ তৈরি করে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা খারিজ হয়ে গেছে। তারা (জামাল-নুর আলম) এবার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় জমি দখলে নিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে স্বজনদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
গত ২৩ ডিসেম্বর নুর আলমকে ঘটনাস্থল থেকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ আটক করে থানায় নিয়ে যান শাজাহানপুর থানার এসআই মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি নুর আলমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সাহিদা বেগমের করা ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে এসআই তরিকুল বলেন, নুর আলমকে আটকের সময় শুধু রড উদ্ধার করা হয়েছে। সেই রড জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরে পুলিশ কর্মকর্তা তরিকুল বলেন, রড নয়, নুর আলমের কাছ থেকে পাইপ জব্দ করা হয়েছে। ভুল করে রড বলেছিলাম। ওই সময় নুর আলমের কাছে ধারালো কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।