অভিযুক্ত শহিদের বাড়ি সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের চাঁদখালী গ্রামে। তার বাবার নাম গোফরান মিয়া। আর মাকসুদ পশ্চিম মান্দারী গ্রামের নুর আলমের ছেলে।
ভুক্তভোগী খাদিজা জানান, ২৮ ডিসেম্বর সকালে পশ্চিম মান্দারী গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়ে মাকসুদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। অটোরিকশায় মাকসুদ ছাড়া আরো দুজন লোক ছিলেন। কিছুদূর গেলেই বারবার অটোরিকশা থামান মাকসুদ। লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকায় গেলে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় অটোরিকশাটি।
.png)
ভেতরে থাকা ১৫ বছরের এক কিশোর রাস্তায় নামতেই একটি সোনার বার পান। সেখানে একটি ম্যামোসহ চিরকুট ছিল। চিরকুটটি পড়ার জন্য খাদিজাকে দেওয়া হয়। গহনা বানানোর উদ্দেশ্যে কেউ একজন সোনার বারটি একটি স্বর্ণকারের দোকানে নেয়ার সময় পড়ে যায় বলে খাদিজার কাছে মনে হয়।
তিনি আরো জানান, সোনার বারটি কেনার জন্য বিভিন্নভাবে তাকে বোঝানো হয়। টাকা নেই বললেও তাদের বায়না শেষ হয় না। একপর্যায়ে একই সড়কের তোরাবগঞ্জ এলাকায় গেলে সোনার বার চোখের সামনে ধরলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন খাদিজা। এরপর সোনার বারটি হাতে দিয়ে তার কানের দুল ও গলার চেইন নিয়ে অটোরিকশা নিয়ে উধাও হয়ে যায় প্রতারক চক্র। সোনার বারটি নিয়ে পরদিন স্থানীয় একটি স্বর্ণকারের দোকানে যান তিনি। বারটি তামার বলে জানান স্বর্ণকার। পরে বিষয়টি তার ভাইকে জানান।
খাদিজার ভাই আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই প্রতারক চক্রের লোকজনের অবস্থান। খাদিজার থেকে ঘটনাটি শোনার পর আমি আঁচ করতে পারি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মাকসুদ ও শহীদ বিষয়টি স্বীকার করেন।
লাহারকান্দি ইউনিয়নের চাঁদখালী গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, নকল সোনার বার দেখিয়ে প্রতারণা করে আমার মায়ের সাত আনা গহনা নিয়ে যান মাকসুদ ও শহিদ গ্রুপের লোকজন। পরে তাদের কাছ থেকে সোনার বিনিময়ে টাকা আদায় করি।
মুঠোফোনে মাকসুদ ও শহিদ জানান, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা। সোনার পরিবর্তে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি টাকা শিগগির দিয়ে দেবেন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন তারা ভালো হয়ে গেছেন।
মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রুবেল পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাটি আমাকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নেয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি তদন্তে আমি নিজেই ওই এলাকায় যাবো। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।