ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর-দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের বারঘরিয়া গোষ্ঠীর বাড়িতে ওয়াজ মাহফিল হয়। ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে রাস্তার উপর কিছু ভাসমান দোকানপাট বসে। রাতে রাস্তা দিয়ে এলাকার জারুর বাড়ির মো. রুহুল আমিন অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় বারঘরিয়া গোষ্ঠীর একজনের গায়ে লাগে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির পর বারঘরিয়া গোষ্ঠীর লোকজন রহুল আমিনকে মারধোর এবং অটোরিকশা ভাংচুর করেন।
রুহুল আমিন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার বাড়ির লোকজনকে জানালে তার গোষ্ঠীর লোকজন রাস্তায় বারঘরিয়া গোষ্ঠীর দুইটি অটোরিকশা আটকে রাখেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য দূর্গাপুর ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাসেল মিয়া তার পরিষদের সদস্য বারঘরিয়া গোষ্ঠীর মো. মিজান মিয়াকে বাড়িতে ডেকে আনেন।
মিজান মেম্বার চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যানের সামনেই জারুর গোষ্ঠীর লোকজন তাকে পিটিয়ে আহত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বারঘরিয়া গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় দা-বল্লম নিয়ে জারুর গোষ্ঠীর লোকজনের উপর হামলা করেন। পরে জারুর গোষ্ঠীর লোকজনও পাল্টা হামলা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে উভয় গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে দুর্গাপুর গ্রামের অন্যান্য গোষ্ঠীর লোকজনও জারুর গোষ্ঠী ও বারঘরিয়ার গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. আজাদ রহমান বলেন, বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।