জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ মেলা। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য মাছ নিয়ে আসেন এখানে।
স্থানীয়রা জানান, পৌষ সংক্রান্তি এবং নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মাছ কেনাবেচার এ উৎসবের নাম ‘মাছের মেলা’। এখানে লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হয় বিশাল আকৃতির একেকটি মাছের।
.png)
পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে জমিদার মথুর বাবু মাছের মেলার প্রচলন করেন। প্রথমে মেলাটি সদর উপজেলার মনুমুখ এলাকায় হলেও পরবর্তীতে শেরপুরে স্থানান্তর করা হয়। মৎস্যজীবীরা এখানে মাছ বিক্রির জন্য পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে থেকেই বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। বিশেষ ব্যবস্থায় এসব মাছ পানিতে বাঁচিয়ে তাজা রাখা হয়।
মাছ ব্যবসায়ী শামীম মিয়া জানান, মেলায় মাছের বাজার জমেছে। ভালো বেচাকেনার আশা প্রকাশ করেন তিনি। ১০ লাখ টাকার মাছ মজুত করেছেন। এরই মধ্যে তার তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে।
মৎস্য আড়তের মালিক ইব্রাহিম মিয়া জানান, তার আড়তে মেঘনা নদীতে ধরা পড়া ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় এসেছে। মাছটির দাম উঠেছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।
মেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অলিউর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মেলার কদর স্থানীয়দের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গত বর্ষায় সিলেট বিভাগে বন্যা হয়। এতে সবকটি হাওর-জলাশয়ে মাছের বিচরণ বৃদ্ধির কারণে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন হয়েছে। গত অর্থবছরে মৌলভীবাজারে চার হাজার ৫৫২ টন মাছ উৎপাদন হয়েছিল। এবার উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।