সবজি ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মাটি থেকে সর্বোচ্চ তিন ফুট উচ্চতার পাটকাঠি ও বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ হচ্ছে শিম, করলা, শসা, লাউসহ নানা ধরনের সবজি। এসব সবজি ক্ষেত গোটা গ্রামটিকেই সাজিয়েছে সবুজের আবরণে। স্থানীয়দের মতে, মাগুরায় সবজি চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন বেলনগর, রামনগর, দূর্গাপুর ও লক্ষ্মীকান্দার গ্রামের সবজি চাষিরা। এইসব সবজি ক্ষেতে পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন নারীরাও।
লক্ষ্মীকান্দর গ্রামের শিম চাষি লক্ষণ বিশ্বাস জানান, এক সময় ধান, পাট চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু বছর শেষে দেখা যেত জমির সেচ সার ও অন্যান্য উপকরণের মিলিয়ে বিঘা প্রতি যে খরচ হতো তা বাদ দিয়ে খুবই কম লাভ হয়। কোনো কোনো বছর উৎপাদন খরচ পর্যন্ত উঠত না। অনেক সময় ঋণের টাকা পর্যন্ত শোধ করতে পারতেন না। এ কারণে তিন বছর আগে ৩০ শতক জমিতে শিমের আবাদ শুরু করেন। প্রথম মৌসুমেই তিনি শিম ক্ষেত থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ করেন।
.png)

বাড়ির কাজের পাশাপাশি সবজি ক্ষেতে কাজ করা গৃহিণী সাধনা রানি বিশ্বাস জানান, এক দশক আগেও ধান-পাটসহ প্রচলিত মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। চাষিরা এখন বারোমাসি সবজি আবাদ করছেন। মৌসুমি শেষে ঘরে তুলেছে লাখ লাখ টাকার ফসল। বদলে ফেলেছেন জীবনযাত্রার মান। আর এ কারণেই অনেকটা লাঘব হয়েছে তাদের অভাব। সবজি আবাদ করে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, এ অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজি আড়ত মাগুরা কাঁচা বাজারে যায়। অনেক সময় দূরের পাইকারা ক্ষেত থেকেও সবজি নিয়ে যান। এ গ্রামের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি মাগুরার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় এবার জেলায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। শীতের সময় বাজারে শিমের চাহিদা বেশি হওয়ায় লাভও ভালো হচ্ছে। তাই শিম চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন।