বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। গ্রেফতার মাজহারুল ইসলাম জয়পুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার জয়পুর গ্রামে বাড়ির পাশে শরীফ মিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনার দুদিন পর শরীফের বাবা জামরুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামেন মোহনগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুজ্জামান। ঘটনার ৩৭ দিন পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেন তিনি।
.png)
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সাক্ষী-প্রমাণ না থাকায় তদন্তে দক্ষতা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে বেশ কয়েকজনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে এক নারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জয়পুর গ্রামের মাজহারুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাজহারুলকে দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হলেও হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। পরে কারাগারে মাজহারুলের সঙ্গে তার মা দেখা করতে গিয়ে নানা কসম দিয়ে হত্যার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় মাজহারুল তার মায়ের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ খবর পরিদর্শক শফিকুজ্জামানের কানে পৌঁছলে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার বিষয় স্বীকার করেন মাজহারুল। পরে আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মাজহারুলের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মাজহারুলের ভাবির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল শরীফের। এ ঘটনা মাজহারুলের চোখে ধরা পড়ে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এতে একে অপরের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন। এরই জেরে ঘটনার কয়েকদিন আগে একটি দা বানিয়ে এনে বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে লুকিয়ে রাখেন মাজহারুল।
ঘটনার রাতে শরীফকে ভাবির ঘর থেকে দৌড়ে বের হতে দেখেন মাজহারুল। পিছু নিয়ে বাড়ির সামনে ক্ষেতে গিয়ে ধরে ফেলেন। এ সময় শরীফ তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তখন লুকিয়ে রাখা দা বের করে গলায় কোপ দিয়ে শরীফকে হত্যা করেন মাজহারুল। পরে বাড়ি গিয়ে স্বাভাবিকভাবে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
তিনি আরো বলেন, এ হত্যার রহস্য উদঘাটন কঠিন কাজ ছিল। পরিদর্শক শফিকুজ্জামানের বিচক্ষণতায় এ মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।