‘হঠাৎ চিৎকারে ঘুম ভেঙে দেখি মাকে কুপিয়ে মারছে বাবা’
বুধবার তখন মধ্যরাত। ঘুমিয়ে ছিলেন সবাই। হঠাৎ মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় ১১ বছরের মেয়ে মিমের। ঐ সময় সে দেখে মা বিউটি বেগমকে চাপাটি দিয়ে কুপিয়ে মারছেন বাবা। পরে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে ছোট চাচাকে ডাকে সে। একপর্যায়ে চিৎকার শুনে আশেপাশের সবাই ছুটে এলে পালিয়ে যান আব্দুল লতিফ।
বুধবার রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী জেলা সদরের বানিবহ ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে।
নিহত বিউটির বাবা বিল্লাল মোল্লা বলেন, আমার বাড়ির পাশেই বিউটি তার স্বামী সন্তাদের নিয়ে বসবাস করে। গতরাতে আমার নাতনি মিমের চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি ঘরের মেঝেতে আমার মেয়ে বিউটির রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
.png)
নিহত বিউটির মেয়ে মিম বলেন, ‘রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে দেখি বাবা মাকে চাপাটি দিয়ে কুপিয়ে মারছে। দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে ছোট চাচাকে ডাকি। আমাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের সবাই ছুটে এলে বাবা তখন পালিয়ে যায়।’
নিহত বিউটির ভাই মো. পারভেজ মোল্লা বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার বোনের স্বামী আ. লতিফ ঝগড়া বিবাদ করতো। গতরাতে সে আমার বোনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছে। আমরা দ্রুত তাকে গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই।
বিউটির মামাতো ভাই শাহিন মন্ডল জানান, ১২ বছর আগে আব্দুল লতিফ কাজীর সঙ্গে বোন বিউটির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে চলছিল পারিবারিক কলহ। এরই জেরে মধ্যরাতে মেয়ের সামনে মা বিউটিকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান লতিফ।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে লতিফ কাজী তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লতিফ কাজীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।