নিহত গৃহবধূর নাম সুরাইয়া আক্তার (১৮)। তিনি উপজেলার ৫নং ছয়ানী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাহিদপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দোয়ালিয়া ঠাকুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
নিহতের চাচা জাকির হোসেন ও নুর আহমদ অভিযোগ করে বলেন, নয় মাস আগে তার ভাতিজি সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ালিয়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ির মো. আবদুল্ল্যার ছেলে মো. ফয়সাল মাহমুদ পাভেলের বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি ২-৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুরাইয়ার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হতো। এ ভয়ে তিনি বাবার বাড়িতে গেলে স্বামীর বাড়ি আসতে চাইতেন না। গত ৪ দিন আগে তিনি বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যান। গত ৩ দিন ধরে তার স্বামীর পরিবারে ঝগড়া চলছে। এর জের ধরে গত ৩ দিন তাদের ঘরে কোনো খাবার রান্না হয়নি। তিনি গত ৩ দিন ধরে উপোস ছিলেন। নানামুখী নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি বাবার বাড়ি চলে যেতে চেষ্টা করলে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। গরিব পরিবারের মেয়ে হওয়ায় তিনি স্বামীর বাড়ির নির্যাতনের বিষয়ে বাবার বাড়ির লোকজনকে তেমন অভিযোগ করতেন না। সব মুখ বুঝে কিছু সহ্য করে স্বামীর সংসার করছিলেন।
তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুরাইয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের ফোনে জানান সুরাইয়া বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আমরা তার মুখে কোনো বিষের গন্ধ পাইনি। তার মুখে একটি চড়ের দাগ রয়েছে। তারা দুপুর ১২টার দিকে আমাদের মেয়েকে হত্যা করে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন। একপর্যায়ে তারা সুরাইয়াকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আবার তারা সেখান থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের শ্বশুর মো. আবদুল্ল্যাহ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, তিনি অনেক ভালো মেয়ে ছিলেন। আমার ছেলে তাকে খুব ভালোবাসতেন। তাকে হত্যার প্রশ্নই উঠে না।
বেগমগঞ্জ থানার এসআই মো. শাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে বলেন, আশেপাশের লোকজন জানিয়েছে; নিহত গৃহবধূর গায়ে একটা খিঁচুনি উঠেছে। পরে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।