তিন মেয়েই ছোট, স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী রাশেদা
গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে সীতাকুণ্ডের সীমা রি-রোলিং মিলের অক্সিজেন প্ল্যান্টে কাজ করতেন মোহাম্মদ ফরিদ। ঘটনার পর ফোন পেয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান ফরিদের স্ত্রী। হাসপাতালে গিয়ে এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মর্গে স্বামীর লাশ পান স্ত্রী রাশেদা আক্তার। এর আগেই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ফরিদ।
স্বামীর লাশ দেখেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাশেদা। এরপর থেকেই শুরু করেন বিলাপ। বিলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন রাশেদা। নিজেকে কিছুটা সামলে অস্ফুট স্বরে জানান, তাদের সংসারে তিন মেয়ে। সবাই ছোট। ফরিদের আয়েই চলতো সংসার।
ফরিদের শ্যালক আজম খান বলেন, বিকেলে এক ব্যক্তি ফরিদের স্ত্রী রাশেদা আক্তারকে ফোন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। সন্ধ্যায় তারা সেখানে যান। প্রথমে ফরিদকে খুঁজে পাননি। পরে পুলিশের মাধ্যমে মর্গে তার লাশ পান।
.png)
নিহত ফরিদ সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়েছেন আরো অন্তত ৪৫ জন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরিদ ছাড়াও নিহত অন্যরা হলেন- সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম, ফটিকছড়ি উপজেলার মো. সেলিম, নেত্রকোনার রতন, নোয়াখালীর মো. আব্দুল কাদের ও লক্ষ্মীপুরের মো. সালাউদ্দিন।
শামসুল আলমের জামাতা মো. নাছির জানান, শামসুল আলম ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে ছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি ধাতব টুকরো উড়ে গিয়ে তার মাথায় পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- মো. নূর হোসেন, মো. আরাফাত, মোতালেব, ফেনসি, মো. জসিম উদ্দিন, নারায়ণ, মো. ফোরকান, শাহরিয়ার, মো. জাহিদ হাসান।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সুলতান মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৪৫ জনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সীতাকুণ্ডের ইউএনও শাহাদৎ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ছয়জন নিহতের খবর পেয়েছি। তাদের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণাও।