জানা গেছে, হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের পেছনে থাকা পূর্বের মানসিক ওয়ার্ডে নতুন এ ওয়ার্ডটি স্থাপন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ওয়ার্ডটি আইসিইউ ওয়ার্ডে রূপান্তর কার্যক্রম শুরু হবে আগামী সপ্তাহে। অবকাঠামো থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আইসিইউ শয্যা এবং যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ শুরু হবে। নতুন আইসিইউ ওয়ার্ড চালুর ফলে একদিকে যেমন শয্যা সংকট নিরসন হবে, তেমনি মুমূর্ষু রোগীদের সেবাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কবে নাগাদ এ ওয়ার্ডটি চালু হতে পারে, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম শেষ করে এটি চালু করতে চান হাসপাতালের পরিচালক।
.png)
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, হাসপাতালের নিচতলায় ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের পেছনে পূর্বের মানসিক ওয়ার্ডকে নতুন করে আইসিইউ ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে ৪০টি আইসিইউ শয্যা বাসানো হবে। এর মধ্যে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রায় ২০টি আইসিইউ শয্যাসহ সব যন্ত্রপাতি একটি বিশেষ বরাদ্দ থেকে পাওয়া যাবে। বাকিগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা চলবে। অথবা অন্যভাবেও সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আগের মানসিক বিভাগকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আইসিইউ ওয়ার্ড নির্মাণের জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ওয়ার্ডটি চালু করতে চাই।
১৯৬০ সালে ১২০ শয্যা নিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয় বৃহত্তর চট্টগ্রামের সরকারি এ হাসপাতালে। প্রথমদিকে হাসপাতালটিতে আইসিইউ শয্যা ছিল মাত্র পাঁচটি। পরে ২০০৫ সালে তা ১২টিতে উন্নীত হয়। আর তখন সাধারণ শয্যা ছিল এক হাজার ১০টি।
২০১৩ সালে সাধারণ শয্যা ১৩১৩টিতে উন্নীত হলেও বাড়েনি আইসিইউ শয্যা। ২০২০ সালের অক্টোবরে এ হাসপাতালের জন্য আটটি ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউ শয্যা পাঠায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। যা ঐ সময় স্থাপন করলে আইসিইউ শয্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০টিতে। ২০২২ সালে আরেক দফায় হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে করা হয় দুই হাজার ২০০টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ১৬টি আইসিইউ শয্যা দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ হাসপাতাল।