ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বেলকুচি পৌরসভার গাড়ামাশি পূর্বপাড়ায়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি পৌরসভার স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার মাহমুদ শিপন। এর আগে মঙ্গলবার দুপর থেকে প্রেমিক লিখনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন ওই প্রেমিকা।
অভিযুক্ত লিখন কুমার রাজবংশী উপজেলার বেলকুচি পৌরসভার গাড়ামাশি পূর্বপাড়ার বানছা চন্দ্র রাজবংশীর ছেলে। তিনি বেলকুচি সরকারি কলেজের অনার্স (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
.png)
অবস্থান নেয়া ওই কলেজছাত্রী বলেন, প্রায় এক বছর আগে লিখনের সঙ্গে সম্পর্ক হয় আমার। এরপর আমরা একসঙ্গে নানান জায়গায় ঘোরাফেরা করেছি। একপর্যায়ে লিখন তার বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এরপর বিয়ের কথা বললেই সে তালবাহানা শুরু করে। আমি বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার দুপুর থেকে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখানে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই আমাকে বিয়ে করবে বলে জানিয়েছে লিখন। গতকাল রাত ১২টার দিকে লিখন, তার বাবা-মা ও দাদারা মিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি তাদের পায়ে ধরে কোনোরকমে এখানে থাকতে পেরেছি। যেহেতু লিখনের সঙ্গে আমার একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, তাই লিখনকে বিয়ে করা ছাড়া উপায় নেই। তাকে বিয়ে না করলে আমাকে মরতে হবে।’
অভিযুক্ত প্রেমিক লিখন বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। কিন্তু তার আরো ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। আমি তাকে কোনোভাবেই বিয়ে করতে পারব না।
লিখনের দাদা রিপন কুমার রাজবংশী জানান, লিখন বলেছে ওই মেয়ে ভালো না। আমরা জেনেশুনে কোনোভাবেই এই মেয়ের সঙ্গে আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে দিতে পারি না। বিষয়টি মিটমাট করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
বেলকুচি পৌরসভার স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার মাহমুদ শিপন জানান, মেয়ের পরিবারকে সংবাদ দিয়ে আনা হয়েছিল। এলাকার মাতবররা বসে একটা সমাধানে আসা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মেয়ের পরিবার কিছু না বলে চলে যায়।
বেলকুচি থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।