সোমবার দুপুরে ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী উপজেলার চরডুব্বা গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের স্ত্রী সফুরা খাতুন এবং ভোলার চরফ্যাশনের চর আবজাল গ্রামের মো. সেলিম খান। দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন সম্পর্কে জামাই ও শাশুড়ি। রায় ঘোষণাকালে জামাই সেলিম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সোনাগাজীর চর গণেশ এলাকার প্রবাসী নুর মোহাম্মদ সোহেলের নিলুফা মঞ্জিলে ঝি এর কাজ করতেন সফুরা খাতুন। ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে লোভে পড়ে সফুরা রান্না করা খাবারে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে তার মেয়ের স্বামীসহ ঐ বাড়িতে ডাকাতি করতে প্রবেশ করেন। বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেলে বঁটি দিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে আহত করেন। এতে আহত আসমা আক্তার তানিশা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় গৃহকর্তা প্রবাসী সোহেল বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত সফুরা ও তদন্তে উঠে আসা সেলিম খানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
.png)
আলোচিত এ মামলাটি তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম ও সোনাগাজী মডেল থানার এসআই শ্রীবাস চন্দ্র দাস ২০১৪ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত এ মামলায় ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সফুরাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি সেলিম খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি সেলিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সফুরা বেগম পলাতক রয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুইজন সম্পর্কে জামাই ও শাশুড়ি।