বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রাতের আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় ভূপৃষ্ঠ খুব ঠাণ্ডা হয়। তাপ বিকিরণ করে ভোর থেকে সকাল ৮টার মধ্যে তাপমাত্রা দ্রুত কমে ২৫-২৬ ডিগ্রিতে চলে আসে। এই তাপমাত্রা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, গরম থাকবে ঠিকই। কিন্তু আকাশে মেঘ না থাকায় ভোরে খুব দ্রুত তাপমাত্রা কমে যায়। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানকার বাতাসে কিছুটা জলীয়বাষ্প আসে। সেই জলীয়বাষ্পই মূলত কুয়াশার সৃষ্টি করে।
.png)
স্থানীয়রা বলছেন, বৈশাখে ঘন কুয়াশা অবাক করেছে মানুষকে। কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে শীতের আগাম জানান দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি এক ধরনের দুর্যোগ। তবে এ তারতম্য মানুষের শরীরের জন্য মোটেই উপযোগী নয়।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ পুলিন বিহারী ঢালী জানান, বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও খরা দেখেছেন তিনি। কিন্তু এমন ঘন কুয়াশা এর আগে চোখে পড়েনি তার।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার উপকূলে তাপমাত্রা ছিল ৪০.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরো দুই-তিন দিন এ রকম তাপমাত্রা থাকেতে পারে। গত তিন-চার দিন ধরে উপকূলের তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটে যায় কুয়াশা। ফিরে আসে সেই প্রচণ্ড দাবদাহ। এই ভাপসা গরমে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীসহ শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে বেশি পানি পান করতে হবে। রোদের মধ্যে বেশিক্ষণ চলাচল করা যাবে না। শিশুদের খুবই যত্নে রাখতে হবে, যাতে গরমের ঘাম তাদের শরীরে বসে না যায়। এ ছাড়া শারীরিক অসুবিধা মনে হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।