ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তালপাখায় ৫০০ পরিবারের জীবিকা

লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা
প্রকাশিত: ১৫:১৩, ৮ জুন ২০২৩
তালপাখায় ৫০০ পরিবারের জীবিকা
হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মহিলারা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরা শহরতলিসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে অনেক পরিবার তালপাখা তৈরি ও বাজারজাত করে জীবন- জীবিকা নির্বাহ করছে। শহরের নিজনান্দুয়ালী, বাটিকাডাঙ্গা, সদর উপজেলার জগদল, মাধবপুর, শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল, মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ও শালিখার দরিশলই, গঙ্গারামপুর, পানিঘাটা, রাজাপুরসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামে ৫ শতাধিক পরিবার পাখা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

তালপাখা তৈরিতে দরকার হয়- তালপাতা, বাঁশের শলাকা, কঞ্চি, সুতা-সুই ও রং। প্রথমে শুকনা তালপাতা কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। কয়েকদিন পর তালপাতা পানি থেকে তুলে বাঁশের কঞ্চির সাহায্যে কলম লাগিয়ে রোদে শুকানো হয়। এর পর ধারালো ছুরি দিয়ে গোল করে ছেটে আগে থেকে রং করে রাখা বাঁশের শলাকা দিয়ে সুই-সুতাই বাঁধা হয়। পাখাকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন রংয়ের সুতা দিয়ে নকশা করা হয়ে থাকে।

হাতে বানানো তালপাখাএকজন পুরুষ শ্রমিক ১০০ পাখার কাজ করে মজুরি পান ৪০০ টাকা। একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে সর্বোচ্চ ১২৫টি পাখার কাজ করতে পারেন। পাখা বাঁধাইয়ের কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। ১০০ পাখা কাজ করে মহিলা শ্রমিকরা মজুরি পান ১৫০-২০০ টাকা। একজন মহিলা শ্রমিক দিনে ৯০-১০০ খানা পাখা বাঁধতে পারেন।

Advertisement

পাখা কিনতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম মহব্বত আলী বলেন, তীব্র গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে গেছে। বেশি অসুবিধা হচ্ছে ছোট্ট শিশু ও বয়স্ক মানুষদের। চার্জার ফ্যান সাধারণ মানুষের কেনার সামর্থ্য নেই। কেননা বেশিরভাগ দোকানেই চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ফ্যান। তাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য একমাত্র ভরসা এই তালপাখা।

হাতপাখা বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরামাগুরা শহরতলির বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের পাখার মহাজন ফুলমতি বেগম বলেন, তালপাখার  জন্য ছোট গাছের পাতার চাহিদা বেশি। আগে এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত তালপাতা পাওয়া গেলেও এখন আগের মতো পাতা মেলে না। দূর-দূরান্ত থেকে পাতা কিনে আনতে হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাতা কিনতে হয়। গাছ থেকে ১০০ পাতা কিনতে হয় ৮০০ টাকায় শ্রমিক লাগিয়ে পাতা কেটে বাড়িতে পৌঁছাতে খরচ হয় সাড়ে ৯০০ টাকা। একেকটি পাতা থেকে দুটি করে পাখা তৈরি হয়। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে একটি পাখা বানাতে খরচ হয় ২৫-৩০ টাকার উপরে। বাজারে একেকটি ভালো মানের তালপাখা বর্তমানে ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

তালপাখাপাইকারি পাখা বিক্রেতা মো. সাহেব আলী বিশ্বাস জানান, তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই পাখা শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এটা তাদের বাপ-দাদার ব্যবসা। তাদের বাড়িতে ৪-৫ হাজার পাখা মজুত থাকে সব সময়। তার থেকে ঢাকা, খুলনা, যশোর পাবনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া থেকে ক্রেতারা পাখা কিনে নিয়ে যায়। এখানে পাখার প্রকারভেদে এক হাজার পাখা বর্তমানে ২৫০০-৩০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

সৈয়দ আতর আলী সড়কের শিকদার ইলেকট্রনিকের মালিক আজম শিকদার বলেন, ঢাকা থেকে মাল আসছে না। গরমের কারণে চাহিদা বেড়েছে ফ্যানের। আমরা যেমন দামে কিনছি, সেভাবেই বিক্রি করছি। অন্য কোনো দোকানদার বেশি দামে বেচাকেনা করছে কি-না আমার জানা নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: মাগুরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!