জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর এ চিড়িয়াখানায় বিপন্ন পাহাড়ি কাছিম প্রজনন করেনি। চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে কাছিমের জন্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন খাঁচা তৈরি করা হয়। সেই খাঁচায় তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে আটটি কাছিম প্রজননের পরিবেশ ফিরে পায়।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, বিভিন্ন পশুপাখির বংশবিস্তারের মাধ্যমে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার কাজ করছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রজননের সফলতায় নতুন যোগ হয়েছে হলুদ পাহাড়ি কাছিম। বৃহস্পতিবার তিনটি ও শনিবার একটি কাছিমের জন্ম হয়।
.png)
তিনি আরো বলেন, হলুদ পাহাড়ি কাছিম একটি অতি বিপন্ন প্রাণি। যেসব পশুপাখি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বিলুপ্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ‘অতি বিপন্ন’ এর তালিকায় রাখা হয়েছে হলুদ কাছিমকে।
হলুদ পাহাড়ি কাছিমকে চাকমা ভাষায় বলা হয় ‘পারবো ডুর’। এরা লম্বায় ৩৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। পরিপূর্ণ অবস্থায় ওজন দাঁড়ায় প্রায় তিন কেজি। বর্ষায় এরা ডিম পাড়ে। হলুদ পাহাড়ি কাছিম উভচর প্রাণী হলেও সাধারণত ডাঙায় থাকে। গুল্মজাতীয় খাবার এদের প্রিয়। এরা সবুজ ঘাস, লতাপাতা, ফুল ও ফল খায়। এ কাছিমের কোষগুলো পাতলা এবং পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাঝে বুনট চামড়ার জাল থাকে। এদের খোলস সমতল ও সুষম আকৃতির। ডাঙায় থাকে বলে মানুষ এদের শিকারের মাধ্যমে মাংস রান্না করে খায়। ফলে দিন দিন কমছে এদের সংখ্যা।