সম্প্রতি শাহজাদপুর পৌরসভার সজীব ও পৌরজনা ইউনিয়নের আনিছ নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে গালা ইউনিয়নের কাশিপুর মৌজার মারজান ফকির গ্রামের যমুনার পূর্বপাড় থেকে অনামিকা, তায়িম ও আন্নাফী লোড ড্রেজার বসিয়ে ভাল্কহেডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। প্রায় ২০ ভাল্কহেডে মাধ্যমে অবৈধ বালু চলে যাচ্ছে মানিকগঞ্জ, আরিচা, চাঁদপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে।
একদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, অন্যদিকে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর তীরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বালু উত্তোলনের ফলে গত কয়েক দিনে শাহজাদপুরের বেনুটিয়া, কাশিপুর, ব্রাহ্মনগ্রাম, আরকান্দি, বাঐখোলা এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনের মুখে অনেকে সরিয়ে নিচ্ছে বসতঘর।
.png)
গত ২২মে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল ও গণমাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়া শাহজাদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সজীব ও আনিছের নেতৃত্বে মান্নান, হিরক, নাসির গং ড্রেজার বসিয়ে ভাল্কহেডের মাধ্যমে দিনে-রাতে কাশিপুর মৌজার মারজান ফকিরপাড়া গ্রামের যনুনা নদীর পূর্বপাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বেনুটিয়া ও কাশিপুর গ্রামের ফসলী জমি, বসতবাড়ি, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, পাকা রাস্তা ও সরকারি স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলমান থাকলে এলাকাবাসী সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসবে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বালু উত্তোলনকারী আনিছকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি শাহজাদপুরে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। এই বলে মোবাইল কেটে দেন।
শাহজাদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান বলেন, শাহজাদপুরের যমুনা নদীতে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের আলোকে কাশিপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছি। আবারো যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন জানান, মে মাসের শেষের দিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিল। আবারো যদি বালু উত্তোলন শুরু করে থাকে, বালুখেকোদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।