গত মে মাসের ১৮ তারিখে আল-আমিন অফিস সহায়ক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫ জুন মামলা দায়ের করেন কিশোরীর মা। কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং মামলার তথ্য প্রতিবেদকের হাতে আসে মঙ্গলবার (২০ জুন)।
অভিযুক্ত আল-আমিন সিকদার চাঁদপুর শহরের কাঁচা কলোনী এলাকার মো. নূরনবীর ছেলে।
.png)
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত এক বছর পূর্বে ধর্ষণের শিকার কিশোরী চাঁদপুর নার্সিং ইন্সটিটিউটে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি নেয়। তার দায়িত্ব ছিল চাঁদপুর নার্সিং ইন্সটিটিউটে নিচতলায় উচ্চমান সহকারী আল-আমিন সিকদারের কক্ষে। তখন থেকেই তিনি কিশোরীকে কারণে ও অকারণে কাছাকাছি আসা এবং কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এরপর গত এপ্রিল মাসের বেতন নেয়ার জন্য তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই অবস্থায় কিশোরী কোনোমতে তার সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং চিৎকার দিয়ে ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা মামলা করলে এবং মামলার আর্জিতে ধর্ষণের চেষ্টা লিখলেও বিচারকের কাছে এবং পৃথক বক্তব্যে কিশোরী তার সঙ্গে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক হয়েছে বলে শিকার করেন। কিশোরীর বক্তব্যের আলোকে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী ৫ জুন কিশোরীর বক্তব্য গ্রহণপূর্বক তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা করতে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। আগামী ২৬ জুনের মধ্যে ডাক্তারি রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে বলে বিচারক আদেশ দেন।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী পৃথক বক্তব্যে বলেন, সে চাকরিতে যোগদানের পর এক মাস পর্যন্ত পরিবেশ ভালো ছিল। কিন্তু এক মাস পর থেকেই আল-আমিন কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন। এরপর তাকে অফিসের বাথরুমে এবং ঢাকায় অফিসের কাজের কথা বলে লঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এছাড়া কিশোরীকে দুর্বল করার জন্য তিনি পূর্বে যেসব নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন সেসব ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে উত্তেজিত করেন এবং ধর্ষণের জন্য সম্মত করান।
চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান। তার কাছে অভিযুক্ত উচ্চমান সহকারী আল-আমিন সিকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা চলমান আছে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি মামলার বিষয়ে তিনি কোনো কিছুই জানেন না। তিনি এখন জেনেছেন। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে দাফতরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এর পূর্বে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে চাঁদপুরের সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর লেখা পোস্ট করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ওই মামলাটি ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ও মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই মামলায় ৪ জন আসামির মধ্যে আল-আমিন সিকদার প্রধান আসামি।