এ জেলার আম অত্যান্ত সুস্বাদু। ক্রেতাদের কাছেও অনেক চাহিদা রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট ও নিয়ামতপুর উপজেলার কিছু অংশ বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। বছরে একটিমাত্র বৃষ্টি নির্ভর ফসল আমন ধানের উপর নির্ভর করতো হতো চাষিদের। পানি স্বল্পতার কারণে অন্যান্য ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। সেসব জমিতে ধানের আবাদ কমিয়ে চাষিরা ঝুঁকছেন আম চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। যা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
.png)
ভোর থেকে শুরু হয় আম পাড়া। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যান, ভটভটি ও অটোরিকশাযোগে চলে বাগানের আম চলে যাচ্ছে বাজারে। সাপাহার উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে সাপাহার-নজিপুর সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে প্রখর রোদে আম চাষিরা বিক্রি করে অপেক্ষা করেন। দর-দামের পরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আড়তে।
গত ২২ জুন থেকে আমের রাজা আম্রপালি আম বাজারে আসতে শুরু করেছে। এছাড়াও হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, লখনা, কাটিমন, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙা আম বাজারে অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। সাপাহারে প্রায় ২৩০টি আমের আড়ত রয়েছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।
আম চাষিরা জানান, এ বছরের শুরু থেকে ছিল অনাবৃষ্টি। এতে করে আম উৎপাদন করতে গিয়ে বাড়তি শ্রম ও অর্থ খরচ হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে গাছে যেমন আমের ফলন কম হয়েছে। অপরদিকে আমের আকারও ছোট হয়েছে। তবে দাম ভাল থাকায় ঘাটতি কিছুটা কম হবে। এতে লাভবান হওয়া সম্ভব।
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, এবারে এ উপজেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিদের কষ্টে উৎপাদিত আম বাজারজাত শুরু করেছে। দাম ভালো পেলে তারা লাভবান হতে পারবেন।