রাজবাড়িতে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে এই বাবুই পাখির বাসা। এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা নান্দনিক বাসাগুলো।
রাজবাড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিছু তাল গাছে বাবুই পাখি বাসা বেঁধেছে। কিছু পাখি নতুন বাসা বাঁধতে ব্যস্ত। তালগাছ থেকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কোনো পাখি তাল গাছের ডালে বসে আছে। কোনো পাখি উড়াউড়ি করছে। পাখির বাসার সঙ্গে মুঠোফোনে সেলফি তুলছে কেউ কেউ।
.png)
বারলাহুরিয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহানুর রহমান বলেন, আমাদের এই তাল গাছে আগে অনেক বাবুই পাখি বাসা তৈরি করতো। এখনো বাসা তৈরি করে। তবে আগের তুলনায় কম। ঝড়-বৃষ্টি হলে মাঝে মধ্যে পাখির ছানা পড়ে যায়। জীবিত থাকলে তাকে পরিচর্যা করি। তবে আমরা পাখির কোনো ক্ষতি করি না। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আমাদেরকে মুখরিত করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুজ্জামান রাজা বলেন, আগে আমাদের এলাকায় প্রচুর তাল ও খেজুর গাছ ছিল। এখন আগের চেয়ে তালগাছ কমে গেছে। পাশাপাশি পাখিও কমে গেছে। এখন আমাদের এখানে একটি গাছে বাবুই পাখির বাসা তৈরি করেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ পাখির বাসা দেখতে আসেন।
রাজবাড়ি চরলক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, তালতলা নামে আমাদের গ্রামের একটি স্থানের নাম আছে। এক সময় সেখানে অনেক তালগাছ ছিল। এ কারণে এই স্থানের নামকরণ করা হয় তালতলা। এখনো স্থানীয়রা ঐ স্থানটিকে তালতলা নামেই চেনেন। কিন্তু এখন আর কোনো তালগাছ নেই। সব তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে খেজুর গাছের অবস্থাও শোচনীয়। অধিকাংশ খেজুর গাছ বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ি সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক নুরুজ্জামান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রতিটি প্রাণীর অবদান রয়েছে। এদের কেউ একজন না থাকলে খাদ্য শৃঙ্খল নষ্ট হয়ে যায়। বাবুই পাখি ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ বাবুই পাখি সব গাছে বাসা বাঁধে না। নির্বিচারে তালগাছ কেটে ফেলা বাবুই পাখি হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেতের পোকামাকর খেয়ে পাখি বেঁচে থাকে। কিন্তু কৃষক এখন এসব খেতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করে থাকে। যা পাখির বিলপ্তি হওয়ার কারণ। আমাদের সচেতন হতে হবে। বড় বড় গাছ রক্ষাসহ বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।