জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও খুশি। বর্তমানে জেলার কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছর জেলায় মোট ৩৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর বিজেআরআই তোষা পাট-৮ (রবি-১) চাষ করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা স্থানভেদে পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে।
.png)
মাগুরা সদর উপজেলা নালিয়ার ডাঙ্গী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধকী কৃষক আক্কাস খান জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি বিজেআরআই তোষা পাট-৮(রবি-১) এর আবাদ করছেন। এলাকার বেশির ভাগ কৃষক এবারও চাষ করেছেন উচ্চ ফলনশীল রবি- জাতের পাট। এ বছর নালিয়ার ডাঙ্গী গ্রামে ৩'শ বিঘা জমিতে এ পাটের চাষ করা হয়েছে। উন্নত আঁশ বিশিষ্ট এ পাট অধিকতর উজ্জল এবং শক্ত। প্রচলিত জাতের তুলনায় এ জাতের গাছ কিছুটা লম্বা হয়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগামীতে রবি-১ জাতের পাটের চাষ আরো বাড়বে বলে জানান এই কৃষক।
জেলার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বৈখালি গ্রামের কৃষক অরূপ কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি ৫০ শতক জমিতে এ পাটের চাষ করেছেন। যেখান থেকে পাওয়া গেছে ১৫ মণ পাট। আবাদ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। দাম আশানুরূপ হলে বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, শুরুতে অনাবৃষ্টি থাকায় পাটের চাষাবাদ একটু দেরিতে হয়েছে। তবে ফলন ভালো হয়েছে। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট জাগ দিতে কৃষকরা কিছুটা অসুবিধায় পড়েছেন। পাট চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। আশা করছি পাটের ভালো দাম পেলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা।