খাবার খেয়েই একে একে মারা গেল ১১ ফ্রিজিয়ান গরু
খামারে খাবার খাওয়ার পর একে একে ১১টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ওই খামারির। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, খাবারের বিষক্রিয়া থেকে মারা যেতে পারে গরুগুলো।
সোমবার সকালে ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের কাজী পাড়া এলাকায় এক উদ্যোক্তার খামারে এ ঘটনা ঘটে।
খামারের কেয়ারটেকার সাদ্দাম হোসেন বলেন, সকাল ৭টার দিকে সবগুলো গরুই ভালো ছিল। তারপর খাবার দিয়ে আমি বাড়ি চলে গেছি। পরে জানতে পারি একটি একটি করে গরু পড়ে মারা গেছে। এভাবে ১১টি গরু মারা যায়।
খামার মালিক আসাদ খান বলেন, ভুসি, খৈল অন্যান্য দানাদার খাবার মিক্সিং করে আমরা চারদিনের খাবার বানাই। তারপর খুব ভালো করে বস্তা টাইট করে বেঁধে রাখি। সেই দানাদার মিক্সিংটাই আজকে খাওয়ানো হইছে। দুই বছর ধরে এভাবেই খাওয়াচ্ছি। শনিবার বানানোর পর এই কয়দিন খাওয়ানো হইছে, কোনো সমস্যা হয়নি।
কিন্তু আজ সকালে যখনি খাওয়ানো হইছে। তখনি গরুগুলো ছটফট করে শুয়ে পড়ে মারা গেছে। আমার এখানে ১৬টা গরু ছিল। যার মধ্যে ১১টা গরু মারা গেছে। বাকি ৫টার অবস্থা এখনও পর্যন্ত ভালো মনে হচ্ছে। সবগুলো ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ষাঁড় ৩টি, ছোট গাভি ২টি ও ৬টি বড় গাভি মারা গেছে। ছয়টি বড় গাভির গর্ভে বাছুর ছিল। আমার ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।
কী কারণে গরুগুলো মারা গেছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ফুড পয়জনিং হতে পারে। তবে কেউ খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সব মিলিয়ে আমার মনের অবস্থা খুবই খারাপ। কথাও বলতে পারছি না। তবে মারা যাওয়ার কারণ জানতে খাবার, গোবর ও রক্ত পরীক্ষা করতে দেবো।
ধামরাই উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইয়াকুব হোসেন বলেন, খাবার খাওয়ার পর ১১টি গরু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। যতটুকু শুনলাম তাতে মনে হচ্ছে খাবারের বিষক্রিয়া থেকে গরুগুলো মারা গেছে। আমরা ওই খামারে গিয়ে দেখব।